
পতাকা ডেস্ক: দীর্ঘ পনের বছরের ফ্যাসীবাদি শাসন, গুম, খুন, নির্যাতন সত্ত্বেও আমাদের হুশ ফেরেনি। হাজারো শহীদের রক্তের উপর দাড়িয়ে এখন গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশ গড়েতোলার বদলে দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থে নিজেদের বিভাজনে ব্যাস্ত হয়ে পরেছে। দৃশ্যমান এই রাজনৈতিক বিভেদ দেশকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে বলে আশংকা করেছেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অবঃ) আব্দুল ওহাব মিনার। তিনি বলেন, একে অপরকে আক্রমণ করে যে বক্তব্য আমরা দেখছি তা মোটেও কাম্য ছিলো না। আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এর কোন বিকল্প নাই, অন্যথায় আমাদেরকেও হাসিনার ভাগ্যে বরণ করতে হবে।
আজ রাত ৯ টায় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন বিজয় একাত্তর চত্বরে “স্মৃতিতে স্মরণে ১৪ই জুলাই” উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিকী মিছিলের প্রারম্ভে তিনি এই বক্তব্য রাখেন। এসময়
প্রফেসর মিনার আরো বলেন, ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে আমাদের শিক্ষার্থীদের গণহারে রাজাকারের বাচ্চা বলে কটাক্ষ করেছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা। এর প্রতিবাদে আমাদের সন্তানেরা রাস্তায় নেমে এসেছিলো যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রুপ নেয়। যার ফলে ৫ আগষ্ট হাসিনাকে পরিবার পরিজন সহ পালিয়ে যেতে হয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী সিন্ডিকেট ১৫ বছর ধরে জনগণকে শোষণ করেছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে প্রতিনিয়ত মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিলো। সেখানে
বর্তমান সরকার বাজার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে জনগণকে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ তৈরি করেছে। ফ্যাসীবাদি সরকার সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে রেখে গেছে, সরকার সকল সমস্যা অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে পারেনি। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও খুব একটা সফল হয়নি।
আমরা বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, খুবই অল্প দিনের মধ্যে যারা একসাথে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই করেছি তারা এখন সামান্য বিষয় নিয়ে একে অপরের সাথে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছি। একে অপরকে আক্রমণ করে কথা বলছি যা মোটেও কাম্য ছিলো না। তিনি আগামীতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহবান জানান। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিকী মিছিল বিজয় একাত্তর চত্বর থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল, বিজয়নগর, কাকরাইল, পল্টন সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিজয় একাত্তর চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়। এসময় এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, লে কর্ণেল (অবঃ) দিদারুল আলম, লে কর্ণেল (অবঃ) হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক( বরিশাল) গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হালিম খোকন, উত্তরের সদস্য সচিব সেলিম খান, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকন, কেন্দ্রীয় ত্রান ও পূনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া, সহকারী সাংগঠনিক (ঢাকা)সম্পাদক শাজাহান ব্যাপারী, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সফিউল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সহ সম্পাদক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, তোফাজ্জল হোসাইন রমিজ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সহ সম্পাদক মাসুদ জমাদ্দার রানা, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



