
বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) নেতৃবৃন্দ রাজধানীসহ দেশের সব ব্যাচেলরদের জঙ্গির কলঙ্ক দেয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তারা বাড়ির মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ব্যাচেলররা আপনার-আমার-আমাদের কারো না কারো ভাই-বোন-বন্ধু, আত্মীয়। তাদের সাথে নিজ সন্তান-আত্মীয় স্বজনের মতই আচরণ করুন। কোনো ধরনের অজুহাতে মাসে কিংবা বছরে-বছরে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি না করে ব্যাচেলদের সহায়তা করুন। আপনার বাড়ির নতুন ভাড়াটিয়ার তথ্য নিকস্থ থানায় জমা দিন এবং আপনার নিরাপত্তার জন্য এককপি সংগ্রহে রাখুন।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়।
সম্প্রতি জঙ্গি হামলা ও পরবর্তী কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে নয় জঙ্গি নিহত হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘ব্লক রেইড’ নিয়ে কতিপয় বাড়িওয়ালা আমাদের ব্যাচেলর সমাজের উপর যে মানসিক অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করেছে তার প্রতিবাদ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যাচেলর নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন ও অতিথির অভিমত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, আমাদের সময়-এর সহযোগি সম্পাদক ও বার্তা প্রধান হুমায়ুন কবির খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট মানিক লাল ঘোষ, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী, হট নিউজ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক আসাদুজ্জামান, চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ-৭১’র সভাপতি, শেখ মো. আবদুর রাজ্জাক, মঠোফোর গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, বোয়াফ যুগ্ম সম্পাদক রেদওয়ান সিকদার।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ব্যাচেলরা সাধারণত ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা বিয়ে করেননি, তাদের ব্যাচেলর বলে থাকি। কিন্তু রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা-উপজেলায় এমন অনেকেই আছেন যারা বিয়ে করেছেন, অথচ পরিবারের সাথে থাকেন না। জীবন ও জীবিকার তাগিদে পরিবার ছেড়ে নানা কাজে বিভিন্ন শহরে অস্থায়ীভাবে যারা বসবাস করেন, তাদেরও ব্যাচেলর হিসেবে গণ্য করা হয়। এরা ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১’র স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন থেকে রানাপ্লাজার সেই মানবিক সাহায্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে আমাদের এই ব্যাচেলর সমাজ। আজ যারা জাতীয় ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদসহ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য এবং সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য আছেন, তাদের অনেকেই এই ব্যাচেলর জীবন থেকে আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই ব্যাচেলর জীবন-যাপনে নিত্যদিনের মানসিক অত্যাচার, অর্থনৈতিক নির্যাতনসহ নানাবিধ সমস্যা নিরসন আজো হয়নি বরং দিন-দিন বিভিন্ন অজুহাতে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ছাড়াও সব বাড়িওয়ালারা যে শতভাগ ব্যাচেলরদের ভাড়া দেন না, তা নয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা-উপজেলায় বসবাসরত জনসংখ্যার অধিকাংশ ব্যাচেলরদের যদি আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সম্পৃক্ত করতে পারি তাহলে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্ব এই সংকট থেকে খুব শিগগিরই বেড়িয়ে আসতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
তারা বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো ধর্ম নেই। নেই কোনো পরিচয়। শোলাকিয়ার ঈদগাঁ মাঠকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো নিহত জঙ্গি আবিরকে বেওয়ারিশ বলে তার লাশ দাফনের মাধ্যমে এটাই প্রামণীত, জঙ্গিদের কোনো বংশ পরিচয়ও নেই। এই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ আজ বিশ্বের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই বিশ্বের সব নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশক্তি নির্মুলে কাজ করতে হবে আমরা মনে করি।




