slider

সিংগাইর আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক হত্যার হুমকি দিলেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদককে

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ): আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ্যে হত্যা ও পুলিশ-প্রশাসন দিয়ে হয়রানির হুমকি দিয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদককে।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুর রহমানের (ভিপি শহিদ) বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সায়েদুল ইসলাম।
অভিযোগে প্রকাশ, গত ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের রংয়ের বাজারে নির্বাচনী পথ সভায় মো. শহিদুর রহমান শহিদ বক্তব্যকালে আচরণবিধি লংঘন করে সায়েদুল ইসলামকে প্রকাশ্যে হত্যাসহ পুলিশ প্রশাসন দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন হচ্ছে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবার-পরিজন নিয়ে আতংকে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে শহিদ ও তার অনুসারীদের দ্বারা এলাকার আইন শৃংখলার অবনতিসহ মানিকগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মো. শহিদুর রহমান আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের সমর্থনে মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সায়েদুল ইসলাম জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর পক্ষে কাজ করছেন। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবাধ,সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য এবং অংশগ্রহনমুলক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধা নাই। সে লক্ষে জনপ্রিয় ও গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর পক্ষে নেমেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগসহ আপামর জনসাধারণ। তিনি আরো বলেন, বিতর্কিত কর্মকান্ডে জনসমর্থন হারিয়ে তারা এ ধরনের হুমকি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছেন।
সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান শহিদ বলেন, সায়েদুল ইসলামের কোন অভিযোগ থাকলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করতে পারতেন। তাছাড়া কোথায় অভিযোগ দিয়েছে তা আমার জানা নেই। তাকে নিয়ে ভাবার সময় আমার নেই। আমি নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার রেহেনা আক্তারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সহকারি রির্টানিং অফিসার ও সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপন দেবনাথ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button