মহান মুক্তিযুদ্ধের হরিণা ক্যাম্প ম্যুরাল ও পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন

নাসির উদ্দিন, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ : শনিবার মানিকগঞ্জের হরিরামপুর পদ্মার দুর্গম চরে নটাখোলয় মহান মুক্তিযুদ্ধ হরিণা ক্যাম্প (হরিরামপুর সিও অফিস) ও সুতালড়ী লঞ্চ আক্রামণের উপর নির্মিত ম্যুরাল উদ্বোধন করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান, এমপি মাননীয় মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেন, তাই করে দেখিয়ে দেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে কোথা থেকে কোন জায়গায় নিয়ে এসেছেন। বঙ্গবন্ধুর একটির পর একটি স্বপ্ন তিনি পূরণ করে চলেছেন। তিনি যা বলেন, তাই করে দেখিয়ে দেন।
মুক্তিযুদ্ধে হরিরামপুরের হরিণা ক্যাম্প (তৎকালীন সিও অফিস) ও সুতালড়ী লঞ্চ আক্রমণের তাৎপর্যে নির্মিত হয়েছে ম্যুরালটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে আমেরিকা একদিন বাংলাদেশকে বলেছিল তলাবিহীন ঝুড়ি, তাদেরই প্রেসিডেন্ট বলেছেন যদি উন্নয়ন দেখতে চাও, বাংলাদেশে যাও।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, বছরের পর বছর আন্দোলন হয়েছে। তারপরে মুক্তিযুদ্ধ। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা দুঃসাহসিক ঘটনাগুলো ঘটিয়েছি। আমাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। চলাচলের জন্য কোনো গাড়িও ছিলো না।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেলজিয়াম আহমেদ এমপি,
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
হাবিবুর রহমান, বিপিএম (বার)পিপিএম(বার) অতিরিক্ত আইজিপি,টুরিস্ট পুলিশ, বাংলাদেশের। সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিপিএম (বার) পিপিএম ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ। মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, জেলা প্রশাসক,মানিকগঞ্জ। বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহিউদ্দিন, সভাপতি-মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ মানিকগঞ্জ৷ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রেজাইল রহমান খান (জানু), সভাপতি-শিবলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যান শিবলায় উপজেলা পরিষদ মানিকগঞ্জ৷ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মমিন উদ্দিন খান, ডেপুটি কমডার,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মানিকগঞ্জ ইউনিট কমান্ড। বীর মুক্তিযোদ্ধা হরিণা ও সুতালড়ী লঞ্চ আক্রামণে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা বৃন্দ।
আরও উপস্থিত ছিলেন, হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আব্দুর রব প্রমুখ।
একটা সময় চরাঞ্চলবাসীর পুলিশী সেবা পাওয়া ছিলো সোনার হরিণের মত। সাধারন ডায়রী করা থেকে শুরু করে প্রায় সকল পুলিশী সেবা পেতে কতই না কষ্ট করতে হয়েছে তাদের, পাড়ি দিতে হয়েছে বিশাল পদ্মানদী। এবার হাতের কাছে পুলিশী সেবা পাওয়ায় স্বপ্ন পুরণ হবে চরাঞ্চলবাসীর। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং দাবির প্রেক্ষিতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার নটাখোলা চরে নির্মান হচ্ছে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। এর ফলে সময় মত আইন শৃংখলা সেবা মিলবে, কমবে অপরাধ প্রবণতা।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল হরিরামপুর উপজেলার নটাখেলা এলাকায় যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ করার সময় এখানেই তার চাচাতো ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতিক মাহফুজুর রহমান নিহত হয়েছিলেন। হরিরামপুরবাসি তথা মানিকগঞ্জের সব`স্তরের জনগনের দাবি বালিরটেক সেতুর নামকরন যেনো বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মাহফুজুর রহমান বীরপ্রতিক এর নামে করা হয় ।




