slider

বড়াইগ্রামে পরকীয়ার জেরেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা : বিচার দাবি

নাটোর প্রতিনিধি : বড়াইগ্রামে নিজ ঘরে আগুনে পুড়ে দুই সন্তানসহ নারীর মৃত্যুর ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী। পরকীয়ায় বাধা হওয়ার কারণেই ঘরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন দিয়ে পাষন্ড স্বামী এ নির্মম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি তাদের। এ ঘটনার মাত্র তিনমাসের মাথায় প্রেমিকা চাচাতো ভাইয়ের বউকে নিয়ে পালিয়েছে ওলি। বৃহস্পতিবার খাকসা গ্রামবাসীর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি তুলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ আলী ওলিকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওলির ভাতিজা লিটন আহমেদ। এ সময় সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ খান, ওলির প্রেমিকা রেখার স্বামী মো: দুলাল ও ছেলে রাকিব (১৬), ওলির আপন চাচা খোদা বক্স, চাচাতো ভাই আ: মান্নান, ভগ্নিপতি সানোয়ার হোসেন, সমাজসেবক মোজাম্মেল হক ও ছাত্র নেতা মিলনসহ শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্য সুত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ রাতে নিজ ঘরে আগুনে পুড়ে ওলি’র স্ত্রী সুমা খাতুন (৩২) মেয়ে অমিয়া আফরিন মাহী (১০), ছেলে ওমর ফারুক (৪) সহ চারজন মারা যান। এ সময় একই ঘরে থাকলেও রহস্যজনকভাবে ওলি অক্ষত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, বেশ কিছুদিন থেকেই ওলি দুলালের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর প্রেমিকাকে পাওয়ার লোভে তিনি পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করেন। এরপর সরকারী-বেসরকারীভাবে নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা, টিন ও বাঁশ কাঠ অনুদান পেলেও শুন্য ভিটায় তিনি ঘর না তুলে এসব সামগ্রী বিক্রি করে দেন। পরে গত ১৪ জুন সাড়ে সাত লাখ টাকা এবং আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ দুলালের স্ত্রীকে নিয়ে ওলি পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে রেখার ছেলে রাকিব (১৬) জানায়, সম্প্রতি আমি তাদেরকে শোবার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেললে চাচা আমাকে বলেন, ‘এ কাজে বাধার জন্যই স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে মেরেছি, আর তুই তো ভাতিজা, যা দেখেছিস, চেপে যা।’ ওলির আপন চাচা খোদা বক্স বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনা মনে হলেও বর্তমানে তার বিভিন্ন কর্মকান্ড ও কথাবার্তায় ষ্পষ্ট যে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে ওলির গ্রেফতার ও বিচার দাবি করছি।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button