ব্রাজিলের নতুন কোচ বস তিতে

ব্রাজিলের নতুন কোচ হিসেবে দুঙ্গার স্থলাভিষিক্ত হলেন করিন্থয়ান্স বস তিতে। কোপ আমেরিকার গ্রুপ পর্ব থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পরে দুঙ্গাকে তার পদ থেকে সরিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।
তিতের ওপর জাতীয় দলের দায়িত্ব দিলেও ঘরের মাঠে আগস্টে অলিম্পিক গেমসের দলটির জন্য অনুর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মিকেলকে বেছে নিয়েছে সিবিএফ। এক বিবৃবিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
এখন পর্যন্ত অলিম্পিকের স্বর্ণপদক অধরাই রয়ে গেছে সেলেসাওদের। রিও ডি জেনিরোর গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সেই লক্ষ্যেই মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। কিন্তু নিজেদের ফর্ম বিবেচনায় সেই কাজটি যে মোটেই সহজ হবেনা তা সহজেই অনুমেয়। তার উপর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দলের অবস্থা মোটেই ভালো নয়। সব মিলিয়ে এক নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে বর্তমান ব্রাজিল ফুটবল।
এর শুরু মূলত ২০১৪ সালে নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানদের কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ম্যাচটি থেকেই। নিজেদের সামর্থ্যের কিছুই দেখাতে পারেনি লুইজ ফিলিপ স্কলারির শিষ্যরা। সেই কারণেই বিশ্বকাপের পরপরই স্কলারির বদলে দুঙ্গার উপর দায়িত্ব পড়ে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার। দুই বছরে দুঙ্গাও তাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।
তিতে যার আসল নাম আদেনোর লিওনার্দো বাচ্চিকেই দুঙ্গার উত্তরসূরী হিসেবে চিন্তা করা হচ্ছিল। মঙ্গলবারই করিন্থিয়ান্স সভাপতি রবার্তো ডি আনদ্রেদ তিতের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। ৫৫ বছর বয়সী তিতে ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি শীর্ষ ক্লাবে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে গ্রেমিরো, এ্যাথলেটিকো মিনেইরো ও পালমেইরাস অন্যতম।
এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন ও আল ওয়াদা ক্লাবেও কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। তার অধীনে সাও পাওলোর শীর্ষ ক্লাব করিন্থিয়ান্স ২০১১ ও ২০১৫ সালে ব্রাজিলিয়ান লীগ শিরোপা ও ২০১৩ সালে কোপা সুডামেরিকানা শিরোপা জয় করে। ২০১২ সালে কোপা লিবারেটেডোরস ও ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপাও ঘরে তুলেছিল করিন্থিয়ান্স।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির অভিযোগ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় সব মিলিয়ে বেশ কিছুদিন যাবত ব্রাজিলিয়ানরা যেখানে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল সেই মুহূর্তে জাতীয় দলের এই পরাজয় সংশ্লিষ্টরা খুব ভালো চোখে দেখেনি। কোচ হিসেবে তিতের ওপর দায়িত্ব প্রদানের মূল কারণই হলো বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে, বেশ কয়েকবার ক্লাব পর্যায়ে তিনি তার প্রমাণও দিয়েছেন।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে ব্রাজিলের স্বর্ণালী দিন ফিরিয়ে আনতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে তিতেকে। অনেকের মতে কোচ পরিবর্তন করে ব্রাজিলের ফুটবলের সমস্যার সমাধান হবে না।
নতুন কোচের অধীনে ব্রাজিলের মূল লক্ষ্যই হলো ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব থেকে মূল পর্বের টিকেট নিশ্চিত করা। বর্তমানে আঞ্চলিক গ্রুপে ব্রাজিলের অবস্থান ষষ্ঠ। একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি বিশ্বকাপে খেলার এক অনন্য রেকর্ড রয়েছে ব্রাজিলের। এছাড়া পাঁচবার শিরোপা ঘরে তুলে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্বকাপের গর্বিত মালিকও তারা।




