এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ অস্ত্র বিক্রি ২০১৫ সালে
গত এক দশকের মধ্যে বিশ্বে অস্ত্র বিক্রি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে ২০১৫ সালে। একটি বেসরকারি অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠানের বছর ভিত্তিক অস্ত্র বেচাকেনা বিষয়ক রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। লন্ডন ভিত্তিক জেন ইনফরমেশন কোম্পানির প্রস্তুতকৃত ‘বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাণিজ্য রিপোর্ট’ শীর্ষক ওই রিপোর্টে যথারীতি সৌদি আরব ছিল অস্ত্র ক্রেতা দেশগুলোর তালিকার শীর্ষে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ ভারত। তালিকায় এর পরের অবস্থানে ছিল যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, মিসর, ও দক্ষিণ কোরিয়া। আর অস্ত্র বিক্রেতা দেশগুলোর মধ্যে এ বছরও শীর্ষে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের অবস্থান।
ওই গবেষণায় বলা হয়েছে ২০১৫ সালে বিশ্বে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের যা ২০১৪ সালের চেয়ে ছয়শো ৬০ কোটি ডলার বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন বিশ্লেষক বেন মুরেস বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের বিষয়টি দক্ষিণ চীন সাগর ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত’।
মুরেস আরো বলেন, ‘বেশ কিছু বিষয় সৌদি আরবকে অস্ত্র আমদানিতে আগ্রহী করেছে। তাদের দুটি বহুমাত্রিক যুদ্ধ বিমান কর্মসূচী রয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির সময় তারা প্রচুর অস্ত্র ও সরঞ্জামের অর্ডার দিয়েছে যা এখন হাতে আসছে এবং বর্তমানে তাদের হাতে প্রচুর অস্ত্র মজুদ আছে’। এই গবেষক জানিয়েছেন, সৌদি আরব ইতিপূর্বে ছিল না এমন ধরনের অত্যাধুনিক সব অস্ত্র কিনছে। আগে সাধারণত তারা প্রচলিত ভারী অস্ত্র আমদানি করতো। তবে এখন দেশটি নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয় করছে। নিজেদেরকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম এমন অস্ত্র আমদানি করছে বাদশাহ সালমানের দেশ।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ফ্রান্সের অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটি ২০১৮ সালের মধ্যে ইউরোপের সর্বোচ্চ ও বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে। সম্প্রতি তারা তিন হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারের সাবমেরিন বিক্রির চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়ার সাথে।
নিউজ উইক




