শিক্ষা

শিক্ষক সংকট:মানিকগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় ৬০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নাই ২৩৭টি বিদ্যালয়ে। সহকারী শিক্ষক থাকার কথা যেখানে ৩ হাজার ২৪১ জন, সেখানে আছে ২ হাজার ৮৬৭ জন। এতে করে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে বিপাকে পড়ছে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক পদে থাকার কথা ৬০৫ জন। আর সেখানে আছে পুরুষ ১৯২, নারী ১৬৬ জন আর শূন্য হয়ে আছে ২৩৭টি পদ। ঠিক একইভাবে সহকারী শিক্ষক পদে থাকার কথা ছিল ৩ হাজার ২৪১ জন। কিন্তু সেখানে আছে মাত্র পুরুষ ৯৮৩, নারী ১ হাজার ৮৮৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। শূন্য হয়ে আছে ৩৭৪টি পদ।

মানিকগঞ্জ জেলায় ৬০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে এই বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকট থাকলে প্রাথমিক শিক্ষা-কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে যাবে এমনটি মনে করছেন অভিভাবকরা। ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নিয়ম অনুযায়ী থাকার কথা। কিন্তু সেখানে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক। কোনমতে গাদাগাদি করে ক্লাস পরিচালনা করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে প্রায় শিক্ষকরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক নেতা বা শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকায় পোস্টিং নিয়ে নিচ্ছেন।

সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ বাহিরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার বলেন, প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীদের জন্য একজন করে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আমার স্কুলের জন্য রয়েছে প্রায় ১০০ জনের জন্য একজন শিক্ষক।

একই উপজেলার ৫০নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবুল খায়ের বলেন, এমনিতে আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদটি অনেকদিন ধরে শূন্য হয়ে আছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের কাজগুলো আমি করছি। এতে করে আমার ক্লাসগুলো নিতে পারছি না।

এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবকরা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে একসময় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ-থুবড়ে পড়বে।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগির ইউনিয়নের মো. হানিফ মিয়া বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য ভালো কোনো স্কুলে আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। কারণ প্রায় অধিকাংশ শিক্ষক নিজের সুবিধার জন্য শহর এলাকায় পোস্টিং নিয়ে নিচ্ছে। এতে করে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলেয়া ফেরদৌসী শিখা বলেন,  এখন প্রতিনিয়ত শিক্ষকরা অবসরে যাচ্ছেন। মামলার কারণে শূন্যপদে প্রায় ২ বছর যাবৎ নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কথা প্রতিমাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা জানাচ্ছি। আমরা বাধ্য হয়ে পুল শিক্ষক দিয়ে কোনমতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পুল শিক্ষক ৬ মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলে সংযুক্তি দিয়ে শিক্ষক পাঠালেও তারা যেতে চান না। কারণ সেখানে থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা নাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button