শিল্প বিকাশে অগ্রাধিকার নীতি বাজেটে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি-জাসদ

সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, কৃষি-শিল্প-সেবা এ তিন প্রধান খাতের মধ্যে শিল্পকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে পরিকল্পনা দলিল ও বাজেট বক্তৃতায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশীয় শিল্পকে প্রদত্ত প্রণোদনা অপর্যাপ্ত। শিল্প বিকাশে অগ্রাধিকার দেবার নীতি বাজেটে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। এর পাশাপাশি বাজেট ২০১৬-১৭ গত দুই দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখলেও ‘উন্নয়ন’ ও‘সমতা’ নিশ্চিত করতে কোন আদর্শগত ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দেয়নি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ এর উপর দলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলা হয়। এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি। উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দলীয় সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি। উপস্থিত ছিলেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি এড. শাহ জিকরুল আহমেদ, এড. হাবিবুর রহমান শওকত, শফি উদ্দিন মোল্লা, শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, নুরল আখতার, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, রোকনুজ্জামান রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুন্নবী, মাহবুবা আখতার লিপি প্রমূখ।
এতে জাসদো পক্ষ থেকে আরো বলা হয় যে, কৃষিতে বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নিয়োজিত; কৃষি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান উৎস ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতিশীলতার প্রভাবকÑ অথচ কৃষি খাতে বরাদ্দ ও ভর্তুকি বৃদ্ধি করা হয়নি।
অপরদিকে বলা হয় ওয, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি হাতে হাত ধরে অগ্রসর না হলে সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত ও টেকসই হতে পারে না। ১৪ দল ও মহাজোট সরকার দেশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে পরিচালনার সাথে সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির শত্রুদের মোকাবেলার যে রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করছেÑ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুবিধা জনগণের সকল অংশের জন্য, বিশেষত অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য, নিশ্চিত করতে না পারলে সে রাজনৈতিক অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়বে। কেননা, আধুনিক নিরাপত্তার ধারণা অনুসারে জাসদ মনে করে, যে কোন বাইরের শত্রুর চেয়ে দারিদ্র্যের মতো অভ্যন্তরীণ শত্রু একটি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য অধিকতর ক্ষতিকর।
লিখিত বক্তব্যে শিরীন আখতার আরো বলেন, সরকারের রূপকল্প ২০২১ একটি রাজনৈতিক দলিল। এ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য একটি পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১ ও এর অধীনে দুটিÑ ষষ্ঠ ও সপ্তমÑ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)। জাসদ এর আগে সংসদে দাবি জানিয়েছিল যে পরামর্শক ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রণীত জাতীয় পরিকল্পনা দলিলগুলো জাতীয় সংসদে রাজনীতিকদের আলাপ-আলোচনা-মতামতের জন্য উপস্থাপন করা হোক। এবার বাজেট উপস্থাপনকালে ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৯’-এর ১১ ধারা অনুযায়ী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ‘মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি-বিবৃতি’জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাসদ মনে করে একই আইন অনুযায়ী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন ও আলোচনা করা উচিত। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আংশিক অর্জিত হয়েছেÑ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০-এর অধীনে সরকারের প্রথম বাজেট এবারের জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭। প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা, কর্মসৃজন, দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে এবারের বাজেটÑ যার শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা’ বলে। বাংলাদেশ এ বছর ৬% প্রবৃদ্ধির বৃত্ত থেকে ৭% প্রবৃদ্ধির দিকে যাত্রা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেট কাঠামো উপস্থাপনের যে প্রস্তাব করেছেনÑ সেক্ষেত্রে জাসদ ‘উন্নয়ন’ ধারণার সমকালীন আলোচনার প্রতিফলন দেখতে চায়। এর পাশাপাশি দেশের সংবিধানে সমাজতন্ত্রসহ চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির পুনর্বহাল কি শুধুমাত্র ওই শব্দগুলোর পুনর্বহালের জন্যই, নাকি তার কোন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রায়োগিক প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।




