slider

সরকারি আবাসন এখন ছাড়া ভিটা, পরিনত হয়েছে গোয়াল ঘরে

মাহতাবুর রহমান,বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের ০৭নং ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ির সামনে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তী আবাসনের বেহাল দশা।

মানুষের জন্য তৈরি আবাসন পরিণত হয়েছে গোয়াল ঘরে, কয়েকটি আবার গোয়াল ঘরেরও অযোগ্য। ফ্লোর কাঁচা, লোহার এঙ্গেল ও টিন দিয়ে ৩০টি পরিবারের থাকার জন্য ৩টি আবাসন তৈরি করা হয়েছিল। ৩টির এক একটিতে ১০টি পরিবার করে থাকতে পারতো। কিন্তু বর্তমানে আবাসনে খুব খারাপ অবস্থার কারনে অতি কষ্টে তিনটি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আবাসনের একটা পরিত্যক্ত ঘরে দুটি গরু বাধা ও খড়কুটো রাখা তার পাশেরটি গরু বাধারও অনুপযুক্ত, লোহার এঙ্গেল ও টিন ঝুলে আছে যেকোন সময় যে কারও গায়ে পরে দূর্ঘটনা শিকার হতে পারে। অপর ঘরে গিয়ে দেখা গেল সেখানে ১০ পরিবার থাকার কথা থাকলেও কোন ভাবে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে টিকে রয়েছে তিনটি পরিবার।

আবাসনের বাসিন্দা ফারুক শরীফের স্ত্রী সাজেদা বলেন তাদের যাওয়ার কোন যায়গা না থাকায় এখানে আছেন। বর্ষার মৌসুম ঘর থেকে পানি পড়ে ঘরে থাকার অনুপযোগী হয়ে গেলেও তাদের থাকতে হয়। মাদকসেবী ও চোরের তান্ডবে এখানে কতদিন থাকতে পারবেন তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

আবাসনের বাসিন্দা ফারুক শরীফ বলেন আবাসন তৈরির পরে এখানে এসে উঠি বর্তমানে এখানের এতই খারাপ অবস্থা যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমাদের পানি খাওয়ার একটা টিউবয়েল ছিল তাও চোরে নিয়ে গেছে। পায়খানার দরজা বেড়ার টিন চোরে নিয়ে গেছে আরও আগে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: আরিফ হাওলাদার জানান রাতের অন্ধকারে চোরে চুরি করে নিয়ে যায়, আমরা স্থানীয় মেম্বারকে জানিয়েছি তিনি বলেছেন তিনি বিষয়টি দেখবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন এখানে আবাসনে থাকার মত গরিব মানুষ থাকলেও সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার কারনে যারাও ছিল তারাও চলে গেছে। তিনি আরো বলেন অন্যান্য জায়গায় দেখেছি আবাসনে বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় কিন্তু এখানে কখনো সুযোগ-সুবিধা কেউ পেয়েছে বলে জানা নাই।

স্থানীয় বাসিন্দা সোবহান সিকদার বলেন, এখানে চলাচলের মত কোন রাস্তা নেই। এখানে যারা থাকে জীবিকার তাগিদে তাদের দূরে যেতে হয়, তাই যারাও ছিল তারাও দূরে রাস্তার পাশে চলে গেছে। এখানে কেউ নেই এই সুযোগে স্থানীয় মাদক সেবীরা এ সকল ঘর থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।

আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেলী পারভিন মালা জানান আমি এই আবাসনের ব্যাপারে জানি এবং পূর্বের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে জানিয়েছি তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানান।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান বিষয়টি বিষয়টি আমি অবহিত নয়, এখন জানলাম, স্থানে পরিদর্শন করে দেখব এবং ব্যবস্থা নেব।

স্থানীয়দের দাবি বসবাসের অযোগ্য এই আবাসনকে ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হোক। ঠাই হোক গৃহহীনদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button