slider

পটিয়ায় স্কুল কমিটিতে পদ পেয়েই বেপরোয়া ছাত্রলীগ নেতা সোহেল

এসএম আজাদ, দক্ষিণ চট্টগ্রাম : পটিয়া উপজেলার শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পদ পাওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু তৈয়ব সোহেল। সম্প্রতি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ও তার একটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে জানা যায়, মাত্র কলেজ পড়ুয়া ছাত্রনেতা সোহেল কিভাবে আর কোন ক্যাটাগরিতে স্কুল পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতির পদ পেলেন তা অনেকটা স্পষ্ট নয়। পদ পাওয়া আবু তৈয়ব সোহেল এর বাড়ি পটিয়া পৌরসভা তালতলা চৌকি এলাকার ৩নং ওয়ার্ডে। সূত্র জানায়, সোহেল নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপ-ব্যবহার করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কৌটায় শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল কমিটিতে পদ পেয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওই সোহেল দক্ষিণ জেলার আরেক নেতা টিপুর অনুসারী বলে জানা যায়। সোহেল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত ছিলেন। সম্প্রতি স্কুল কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে জাহির করতে থাকেন। সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের সাথে এর আগেও অনেকবার অভদ্রতাসূলভ আচরণ করেছেন তিনি।
সর্বশেষ স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল টাঙানো নিয়ে আবারো তিনি তর্কবির্তকে জড়িয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে। অথচ স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল কমিটির কার্যক্রমে বিব্রত পটিয়ার পুরো শিক্ষিত সমাজ। পরিচালনা কমিটির পদ পেয়েই অনেকের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রলীগ নেতা সোহেলের বিরুদ্ধে।ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ১ মিনিটি ৪৫ সেকেন্ডের অডিও রেকর্ডে প্রধান শিক্ষক কে সোহেল সরাসরি মুঠোফোনে বলতে শোনা যায়, ‘আমি রেজাল্ট টাঙাবো অনুষ্ঠান করে। কিন্তু আপনি স্কুলের ক্লাসে ক্লাসে রেজাল্ট টাঙালেন কেন? এসব তো আমার সাথে বেয়াদবি করতেছেন। প্রতি উত্তরে প্রধান শিক্ষক জানালেন, ‘আমি তো অনুষ্ঠান করতে মানা করিনি।’এক পর্যায়ে সোহেলকে ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে শোনা যায়, ‘নষ্টামি করবেন না। তাহলে খুব খারাপ হবে। আপনাকে কি অবস্থা করি দেখেন। কার ক্ষমতাবলে এসব করতেছেন আমি দেখে নিবো।’ বলে হুমকি দিয়েই ফোন লাইন বিছিন্ন করেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ঘটনা তো অনেক লম্বা। আমি এখন স্কুলে আছি। সোহেলও আমার সামনে আছে। তাই কিছু বলতে পারছি না।’ছাত্রলীগ নেতা সোহেল কোন ক্যাটাগরিতে সহ-সভাপতি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়ন হলেও, স্কুলে ওর কোনো ছেলে-মেয়ে নাই। বিধিমতে তিনি স্কুলের সহ-সভাপতি হতে পারেন না।’ অভিযুক্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু তৈয়ব সোহেল বলেন, কিছুদিন আগে ওই স্কুলের ক্লাস ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের মাত্র কয়েকদিন কোচিং করিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক-দু হাজার টাকা করে নেন প্রধান শিক্ষক হারুন তাতে আমি প্রতিবাদ জানালে স্যার আমার উপর ক্ষিপ্ত হন।
এরপর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছিল গত বৃহস্পতিবার ওই সময়ে আমাকে জানানোর কথা থাকলেও কিন্তু স্যার আমাকে জানাইনি।
তাই আমি স্যারকে উল্টো পাল্টা বলে পেলছি তার জন্য স্কুল কমিটির সভাপতি মহোদয় আমাদের দু’জনকে ডেকে বিষয়টি শনিবারে সমাধান করে দিছে। কিন্তু এখন তিনি আমার রেকর্ডটি অর্ধেক কেটে দিয়ে ভাইরাল করল।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু আহমেদ বলেন, ‘অডিওটি আমি এখনো শুনিনি। শোনার পরে যেটা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটা অবশ্যই নেব।’পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আতিকুল মামুন বলেন, ‘একটি রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে শোনলাম। কিন্তু অডিওটি এখনো আমরা পায়নি। এটি শুনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button