slider

স্বাধীনতার ৫১ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম নেই মরহুম ইউনুস আলীর

আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর ব্যুরোঃ স্বাধীনতার ৫১ বছরে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মান। কিন্তু এতদিনেও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মুক্তাঞ্চলের তৎকালীন সংগঠক ও আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম ইউনুছ আলীর নাম মুক্তিযোদ্ধার চুড়ান্ত তালিকায় ওঠেনি । বার বার যাচাই-বাছাইয়ের নামে হয়রানির শিকার হচ্ছেন পরিবারটি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানে নানান স্বীকৃতি পেলেও পাননি মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এতে তার পরিবার, সতীর্থ ও অনেক মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ জানিয়ে দ্রুত চুড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মরহুম ইউনুস আলী আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের নিয়ে থানা সংগ্ৰাম পরিষদ গঠন করেন। তিনি নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক। সংগ্ৰাম পরিষদের নেতৃত্বে চালু করেন বেসামরিক প্রশাসন। এ প্রশাসন স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প স্থাপন,ছাত্র-যুবকদের বাছাই করে ভারতে প্রশিক্ষনে পাঠানো, মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ সরবরাহসহ নানাবিধ কাজ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস ফুলবাড়ীকে হানাদার মুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর প্রতীক বদরুজ্জামান মিয়া সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি গ্ৰন্হ ও তাজুল মোহাম্মদ সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের খোঁজে কুড়িগ্রাম গ্ৰন্থে তার অবদানের স্বীকৃতি তুলে ধরা হয়। তার স্ত্রী তহরিনা ইউনুস জানান ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁকে রাজনৈতিক রোষানলে পড়ে বার জেলে যেতে হয়। একারণে তিনি পারিবারিক ও অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তার মৃত্যুর পরিবার ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য ২০১৫ সালে আবেদন করে তাঁর পরিবার।২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল উপজেলা পর্যায়ে যাচাই বাছাইয়ে তার নামটি “ক” শ্রেণীতে তালিকা ভুক্ত হয়। সাক্ষাৎকার হলেও আজ পর্যন্ত অজানা কারণে মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নামটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি।শুধু ইউনুস আলী নন তৎকালীন পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগকারী সরকারি চাকরিজীবীও থানা‌ সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য মরহুম সিরাজুল হক আনছারীর নামও চূড়ান্ত তালিকায় ওঠেনি।
উপজেলার জায়গীর গ্ৰামের মুক্তিযোদ্ধা খমির উদ্দিন, শাহজাহান আলী , আব্দুল মতিন, রুস্তম আলী জানান,আমরা ইউনুস সাহেবের নেতৃত্বে যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছি। কিন্তু আমাদের নেতার নাম মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় আমরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
মরহুম ইউনুস আলীর স্ত্রী তহরিনা ইউনুস জানান, আমার স্বামী মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পরও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম নেই। আমার স্বামীর নামটি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। আমার স্বামীর নামটি তালিকায় দেখে যেতে চাই।
সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা, আমির আলী মিয়া জানান, ফুলবাড়ীকে মুক্তাঞ্চল রাখতে ইউনুস আলী ভাইয়ের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তার নাম মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া দুঃখজনক। তাই চূড়ান্ত তালিকায় নামটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ রাশেদুজ্জামান বাবু জানান, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য মরহুম ইউনুস আলীকে সম্মাননা দেয়া হয় ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম আব্দুল জলিল। বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং সরকারকে অনুরোধ জানাবো উনার নামটি দ্রুত মুক্তিযোদ্ধার তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন দাস জানান,মরহুম ইউনুস আলী আবেদন থাকলে আমরা ফাইলপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব এবং ঊর্ধ্বতনও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চাইবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button