হরিরামপুরে অচেতন করে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ
জ. ই. আকাশ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বাল্লা ইউনিয়নে একটি পরিবারের ৮জনকে অচেতন করে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অচেতন ৮জনের মধ্যে ৩জন জনের জ্ঞান ফিরে বাসায় আসলেও বাকি ৫জন এখনো হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানা যায়, গত ২১ মে (শনিবার) দিবাগত রাতে উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অসুস্থরা হলেন, মধ্যপাড়া গ্রামের জিন্নাত আলী ও তার স্ত্রী ফজিরন বেগম। দুই ছেলে আজিজুল হক ও সজল মিয়া, ৪ পুত্রবধূ যমুনা বেগম, লাবনী আক্তার, বকুলী আক্তার ও কাজল আক্তার।
এ ঘটনায় প্রতিবেশি সায়নাল মিয়ার স্ত্রী বিথী আক্তারকে (৩৫) অভিযুক্ত করে হরিরামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. আজিজুল হক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে আজিজুল তাঁর স্ত্রীসহ বিথী আক্তারকে নিয়ে নিজের মরিচক্ষেতে যান মরিচ তুলতে। মরিচ তোলা শেষ হওয়ার আগেই বিথী আক্তার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে চলে আসে। কিন্তু সে নিজের বাড়িতে না গিয়ে আজিজুলের বাড়িতে আসে। সন্ধ্যার দিকে বিথী তাদের জিজ্ঞেস করে, তোদের রান্না হয়েছে নাকি? খাবারগুলো আমি ঘরে নিয়ে দেই। বিথী তাদের রান্না করা খাবার ঘরে নিয়ে দেয়। পরে রাত আটটার দিকে বাড়ির সকলে খাবার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আজিজুল ও সজলের জ্ঞান ফিরে। তবে, কাজল আক্তারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত বিথী আক্তার তাদের খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী আজিজুলের চাচাতো ভাই রিপন মিয়া জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা বাসায় গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এলাকাবাসীর সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি করি।”
একাধিক এলাকাবাসী দাবি করে জানান, “দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যেন পরবর্তীতে এ ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।”
এ ব্যাপারে হরিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মিজানুর ইসলাম মুঠোফোনে জানান, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৬ মাসে একই এলাকায় এ ধরনের আরও তিনটি ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা যায়।



