আজ বিকালে পুরানা পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে গারমেন্টসসহ সকল খাতের শ্রমিকদের ঈদ বোনাসসহ যাবতীয় বেতন ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন এবং বলেছেন শ্রমিকদের রক্ত ঘামে অর্জিত ন্যায্য পাওনা পরিশোধ নিয়ে কোনরূপ তালবাহানা বা নয় – ছয় করার কোন অবকাশ নেই।
তারা বলেন, ঈদের আগে গারমেন্টস শ্রমিকদের বেতন কম দেওয়া বা কোন যুক্তিতে বেতন কর্তন করারও কোন প্রশ্ন নেই।তারা বলেন, বেতন ভাতা শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা, কোন দয়া দাক্ষিণ্যের বিষয় নয়।
নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, করোনার অতিমারী, সরকার ও মালিকদের স্বেচ্ছাচারীতা ও অমানবিক পদক্ষেপের কারণে শ্রমিকেরা গত দুই বছর ভালভাবে ঈদ করতে পারেনি।তারা বলেন,খাদ্যপণ্যের ভয়াবহ উর্ধগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কারনে শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি এমনিতেই কমে গেছে। তারা যে বেতন পায় তা দিয়ে মাসের ১৫ দিন চলাও কঠিন। এই সামান্য মজুরি নিয়েও যদি তালবাহানা করা হয় তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
নেতৃবৃন্দ ঈদের আগে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল – চিনিকলসমুহের শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করারও দাবি জানান।
একইসাথে নেতৃবৃন্দ মুনাফাখোর বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি পদক্ষেপ নেবারও দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দূর্নীতিবাজ মাফিয়া, লুটেরা ব্যবসায়ী, মুনাফাখোর বাজার সিন্ডিকেটের হোতারা সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরী করেছে। নেতৃবৃন্দ দেশ ও জনগণকে রক্ষায় এই দূর্নীতিবাজ মাফিয়াতন্ত্র ও সরকারের বিরুদ্ধে গণসংগ্রাম আরও জোরদার ও বেগবান করার আহবান জানান।
বাম জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা, বাসদ- মার্কসবাদীর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা বাচ্চ ভুঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আব্দুল আলী, ওয়ার্কার্স পার্টি- মার্কসবাদীর বিধান দাস প্রমুখ।
বিজ্ঞপ্তি




