slider

নিয়ামতপুরের সাড়া-চন্ডিপুর রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের ইট, এলাকাবাসীর বাধা

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সাড়া চন্ডিপুর সড়ক পাকা করার কাজে নিম্নমানের ইট (৩নং) ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী রাস্তাার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং নিম্নমানের ইটগুলো তুলে ফেলেছেন। এর পরও ঠিকাদার নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিএলবি-বামইন রাস্তার সাড়া মোড় থেকে চন্ডিপুর রাস্তার প্রায় ১ হাজার ১শ ৬০ মিটার এর মধ্যে ১শ ৬০ মিটার নতুন এবং ১ হাজার মিটার অর্থাৎ ১ কিলোমিটার পুরাতন রাস্তার নির্মাণ করা হচ্ছে। রাস্তাটি এর আগে ১শ ৬০ মিটার ইট দিয়ে সোলিং এবং ১ কিলোমিটার কার্পেটিং দিয়ে নির্মাণ করা ছিল। এখন সেই রাস্তার ১ হাজার ১শ ৬০ মিটার কার্পেটিং করার কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ জন্য ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ইট ও কার্পেটিং উঠিয়ে নতুন করে কার্পেটিং দেওয়ার জন্য পুরোনো ইটের মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। ঠিকাদার বিল পাবেন ৪০ লাখ টাকা। প্রায় এক মাস হলো রাস্তার কাজ শুরু করেছেন হৃদয় ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। খোয়া বিছানোর কাজ প্রায় শেষ।
এদিকে রাস্তায় নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে এলাকাবাসী সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেন। ১০ মার্চ স্থানীয় জনগণ ও অত্র ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় এলাকাবাসী প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন। ঠিকাদারের ব্যবহৃত নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণে বাধা দেয়। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও জনগণের চাপে ঠিকাদার রাস্তার পার্শে অবশিষ্ট নিম্নমানের ইট সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
সাড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের জন্য যে মানের ইট দেওয়ার কথা ঠিকাদার তা দিচ্ছেন না। ফলে রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
তবে ঠিকাদার মারুফ রেজা জানান, ভালো ইট দিয়েই রাস্তার কাজ হচ্ছে। ইট ভাটার মালিক ভুল করে দু’এক গাড়ী ৩নং ইট দিয়ে দিয়েছে। আমরা জানতে পারায় সেই ইটগুলি ফেরৎ দিয়ে দিয়েছি। রাস্তার কাজ সম্পূণূ ভালো ইট দিয়েই হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভাবিচা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ ওবাইদুল হক বলেন, রাস্তাটি ৩নং ইট দিয়ে কার্পেটিং এর কাজ করা হচ্ছে। আমাদেও প্রাণ প্রিয় নেতা রাজনৈতিক অভিভাবক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের কষ্টের উন্নয়নমূলক কাজ এলজিইডি নষ্ট কওে দিচ্ছে। এখানকার এলজিইডির কর্মকর্তারায় ঠিকাদার। তাই এখানকার এলজিইডির কোন কাজ ভালো হয় না। বিষয়টি এলজিইডির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।
এ ব্যাপারে এলজিইডির নিয়ামতপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান জানান, আমি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আমার প্রতিনিধি পাঠিয়ে তদরকি করা হয়েছে। রাস্তাটি যাতে ভালোভাবে নির্মাণ করা যায় সে ব্যাপারে ঠিকাদারকে বলে দেওয়া হয়েছে। আমরা সার্বক্ষনিক নজর রাখছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button