slider

রাতের আঁধারে হরিলুট হচ্ছে পদ্মার বালু

নাটোর প্রতিনিধি : সরকারী নিয়ম তোয়াক্কা না করে নাটোরের লালপুরে নবীনগর গ্রামে রাতের অন্ধকারে পানি শূন্য পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধ ভাবে বালুভরাট উত্তোলনের মাধ্যমে হরিলুটের মহাৎসব চলছে। রাতের অন্ধকারে যানবহনে করে বালু-ভরাট উত্তোলনের মাধ্যমে হরিলুট করে বিক্রয়ের হিড়িক লেগেছে। এতে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা দেখা গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে তীর রক্ষা বাঁধ সহ কয়েকটি গ্রাম। বর্ষার সময় নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছে স্থানীয়রা। থানা পুলিশ,স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই বালু ভরাটউত্তোলন করা হচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। এমনকি বালু ভরাট উত্তোলনের জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে থানা পুলিশ বলে জানা গেছে। এছাড়া আইন ও নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করে এবং সরকারী অনুমতি ছাড়াই অবৈধ ভাবে এই বালু ভরাট উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অন্যদিকে বালু ভরাট বিক্রয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। রাতের অন্ধকারে যানবহনে করে বালুভরাট উত্তোলনের মাধ্যমে হরিলুট করছে তাঁরা। এতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরব ভূমিকা দেখা গেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,পানি শূন্য পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে এভাবে বালু-ভরাট উত্তোলন করা হলে লালপুর সদরে কলনীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন প্রকল্পের প্রায় ৫০টি বাড়ী,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, লালপুর সদর বাজার সহ১০টি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।
বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি প্রবাহিত হলে নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ার ওই সব স্থাপনা সহ গ্রাম গুলো নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা রিজভী কন্সট্রাকশন নামে এক ঠিকাদার নদীর তীর রক্ষা বাঁধের নিচে ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধ ভাবে বালুভরাট উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। বালুভরাট ভর্তি ও খালি ট্রাক্টর গ্রামের মধ্যে রাস্তা তৈরি করে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এবিষয়ে বালুভরাট উত্তোলনের তদারককারী উজ্জ্বল বলেন,রুবেল ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করুন। এবিষয়ে রিজভী কনাকটসনের প্রকৌশলী রুবেল বলেন,বালুভরাট উত্তোলন করার জন্য সরকারী অনুমতি নেই।
এবিষয়ে ঈশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ স¤পাদক সেলিম রেজা বলেন,নদীর তীঁর রক্ষা বাধেঁর নিচ থেকে বালুভরাট উত্তোলন করা হলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার আংশকা আছে। আর বাঁধ ধ্বসে গেলে অনেক বাড়ী ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এবিষয়ে সচেতন মহল জানান,নদীর তীঁর রক্ষা বাঁধের নিচে থেকে বালুভরাট উত্তোলন করা উচিত নয়। অবৈধ ভাবে বালুভরাট উত্তোলন করার জন্য যে সকল পুলিশ সদস্যরা ও স্থানীয় প্রশাসনের যারা সহযোগিতা করছে তাদের এবং বালুভরাট উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত স্বাপক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বালুভরাট উত্তোলন বন্ধ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও স্বারাষ্ট্র মন্ত্রী সহ ভূমি মন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা সুলতানা বলেন, ,বালু-ভরাট উত্তোলনের কোন প্রকার অনুমোদন দেওয়া নাই। এর আগে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে বালুভরাট উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছিল। আবার বালুভরাট উত্তোলন শুরু হয়েছে বিষয়টি দেখছি বলে জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button