slider

নাটোর শহরে ফুটপাত-নর্দমা দখল করে রমরমা ব্যবসা

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোর শহরে বিভিন্ন সড়কে ফুটপাত ও নর্দমা দখল করে পাঁচ শতাধিকের বেশি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে পথচারীরা চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন। এ ছাড়া বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে দুর্গন্ধ শহরবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে ও শহরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের আটটি সড়কের দুই পাশের ফুটপাত ও পার্শ্ববর্তী নর্দমা দখল করে ৫০০টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও দলীয় কার্যালয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পৌরসভা, সদর হাসপাতাল, ভূমি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রি) অফিস, এনএস সরকারি কলেজ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জমিও বেদখল হয়ে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে শহরের বনবেলঘড়িয়া বাইপাস থেকে হরিশপুর বাইপাস পর্যন্ত শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া ৫ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাট এবং সদর হাসপাতাল সড়কের দুইপার্শ্বে । এই সড়কের দুই পাশে ৭০টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
হাসপাতালের প্রধান ফটকের উত্তরের বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে টেনিস ক্লাব ও মাঠ। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাসহ শহরের অভিজাত লোকজন এখানে খেলাধুলা করেন।
রাস্তার দুপাশে বর্ষার সময়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে নির্মিতড্রেন কাম ফুটপাত এখন শহরের জনসাধারণ হাঁটাচলার জন্য ব্যবহার শুরু করেছেন। এরই মধ্যে সেই ফুটপাত দখল শুরু হয়ে গেছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের দখলের কারণে সেগুলো পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।
এছাড়াও ফুটপাত ঘেঁষে নির্মাণসামগ্রী রাখায় রাস্তারযানচলাচলের পথও সংকুচিত হয়ে আসছে। গত ২০১১ সালের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাটোর সফরের সময়ে শহরবাসীকে দেয়া সাতটি প্রতিশ্রুতির একটি ছিল শহরের প্রধান সড়কটির ডিভাইডারসহ প্রশস্তকরণ করা।হরিশপুর থেকে বনবেলঘরিয়া বাইপাস এলাকা পর্যন্ত শহর ঘুরে দেখা গেছে ছোট বড় শতাধিক দোকান ফুটপাত দখল করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। রেল স্টেশন, হাফরান্তা, আলাইপুর ও কানাইখালী এলাকার ফুটপাত সব চেয়ে বেশি দখল হয়েছে। রেল স্টেশন এলাকায় দোকানিরা ফুটপাতের ওপর টি-স্টল, ফলের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করছেন হাফরাস্তা এলাকায় রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নিজেদের জায়গা বুঝে নিলেও সেখানে আবারও হোটেল, রিকশাস্ট্যান্ড ও বিপণীবিতান বসেছে। ফুটপাতের ওপরেই ওয়ার্কশপগুলোর ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ফুটপাতের ওপর মোটর গ্যারেজের কাজ চলছে।হাসপাতাল সড়ক থেকে কান্দিভিটুয়া মহল্লার দিকে চলে গেছে আরেকটি সড়ক। এই সড়কের দুপাশের সরকারি জমির অংশবিশেষ দখল করে ৩০টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদ্রাসা মোড় থেকে বগুড়া সড়কের দুই পাশে ৫২,শুকলপট্টি সড়কে ২০, এনএস কলেজ মাঠের পূর্ব সড়কে ৫০, নাটোর-রাজশাহী সড়কে (শহরের প্রধান সড়ক) ১৫০, রসুলের মোড় সড়কে ৪৮, স্টেশন সড়কে ৬০ ও মাদ্রাসা মোড় থেকে হরিশপুর মোড় সড়কে ৬০টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের মাঝ দিয়ে চলে গেছে নাটোর-রাজশাহী সড়ক। শহরে বাজার করতে আসা এডভোকেট আশরাফুল আলম বলেন, নাটোর শহরে ফুটপাত বলে কিছু নেই। ফুটপাতগুলো ব্যবসায়ীদের দখলে । বাধ্য হয়েই সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। সম্প্রতি আমি নিজে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছি ।
পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী বলেন, সমস্যাটা বাস্তব। এটা নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন ফোরামে বহুবার কথা হয়েছে। পৌরসভার একার পক্ষে দখলদারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়।
জেলা প্রশাসক শামীম আহম্মেদ বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেন না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button