জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসাধারণের চলাচল

আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর ব্যুরোঃ দেশ যখন উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে চলেছে, ৫ বছরে হবে ৫০ বছরের উন্নয়ন; সেই আধুনিক সময়ে মানুষকে এখনো বাঁশের সাঁকো দিয়েই নদী পারাপার হতে হয়। দুর্ভোগের শেষ কোথায় তা আজও জানে না নদী পারের মানুষসহ আশপাশের এলাকাবাসী।
বিগত দুই বছর আগেই বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে পানিতে দেবে যাওয়া কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ড মৌলভীবাজার তিস্তা মানাষ নদীর তীরে অবস্থিত পুরাতন ব্রিজ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ আকার ধারণ করেছে। যে কোন সময় ব্রিজটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন শঙ্কা করছেন এখানকার জনসাধারণ।
তবে এটি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাগন পুরাতন ব্রিজ এলাকা একাদিক বার পরিদর্শন করে গেলেও এখনো পর্যন্ত ব্রিজ কাজ শুরু না হওয়ায় দুই গ্রামবাসীসহ যাতায়াতরত জনগন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আজ রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে ব্রিজটির একাংশ ও মধ্য অংশ নিম্মে দেবে যাওয়ার ফলে ট্রাক্টর, অটো, ঘোড়ার গাড়িসহ ভারী যানবাহন ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়া আসা বন্ধ রয়েছে। তারপরও প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রসার শত ছাত্র/ছাত্রীসহ দুই গ্রামের হাজারো জনসাধারন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করছেন।
এছাড়া ব্রিজের বিভিন্ন অংশে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। দু’পাশে র্রেলিং অকেজো হয়ে পড়েছে। নিচের খুঁটি অনেকটা সরু হয়ে গেছে । যে কোন সময় ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে এ সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বৃহত্তর কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের প্রায় ৪ হাজার জনসাধারনের চলাচলে অসুবিধার সম্মুখিন হয়েছে। তিস্তা মানাষ নদীর এই সেতুটি দেবে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র (কাউনিয়া) বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে।
জানা যায়, ২০১৪ সালে আমেরিকা প্রবাসী নিজ তহবিল থেকে অর্থ প্রদান করে এ সেতু নির্মাণ করে। সেতুটি নির্মাণ করতে ব্যায় হয়েছে ২,৩৭,৩৮২৳। সূত্রে আরো জানা যায়, প্রায় ২ বছর পূর্বে এ ব্রিজ সংস্কারের জন্য জোর দাবী জানিয়ে আসছে গ্রামবাসীরা।




