Uncategorized

এম ভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকান্ড, এখনও ৫১জন নিঁখোজ

মোঃশাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি প্রতিনিধি : এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন ও প্রাণহানির ঘটনায় ঝালকাঠির পোনাবালিয়ার গ্রামপুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেন সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন বলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকার সুগন্ধা নদীতে বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের প্রাণহানি এবং শতাধিক নিখোঁজ রয়েছেন। আগুনে দগ্ধ হওয়াদের মধ্যে ৪৬ জন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ১৯ জনকে পাঠানো ঢাকায় হয়েছে চিকিৎসাধীন ১৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। পুড়ে যাওয়া লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল তার সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। লঞ্চটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিল বলে বিআইডবিøউটিএ থেকে জানানো হয়েছে। তবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অনেকে বলছেন, এই লঞ্চে যাত্রী ছিল চার হাজার।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের হিসাব মতে লঞ্চে ৩৫০-এর মতো যাত্রী ছিল। এর বেশি থাকলে তদন্ত করে দেখা হবে।’ আগুনে পোড়া লঞ্চ পরিদর্শনে গিয়ে শনিবার সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান জানান, ইঞ্জিনে বিস্ফোরণ থেকে লঞ্চে আগুন লেগেছে। এখনও লঞ্চের যে যাত্রীদের পাওয়া যায়নি, তাদের খুঁজতে কাজ করছে ডুবুরিদল। তাদের সঙ্গে নদীতে নৌকা নিয়ে নামেন নিখোঁজদের স্বজনরাও।
অপরদিকে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিখোঁজ ৫১ জনের তালিকা দিয়েছে। তারা সবাই ঝালকাঠির। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঝালকাঠি ইউনিটের মুখপাত্র রাজু হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সুগন্ধা নদীর তীরে ঝালকাঠি পৌর শহরের মিনি পার্কে রেড ক্রিসেন্টের বুথে নিখোঁজদের স্বজনরা এ তথ্য দিয়েছেন। রাজু হাওলাদার বলেন, ‘অগ্নিকান্ডের ঘটনার পরপর ৩৫ জন ভলান্টিয়ার উদ্ধার অভিযানে যাই। যারা এখন পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছি।’ ‘নিখোঁজদের প্রাপ্ত তালিকা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে সন্ধানে কাজ করছি।’ তবে ঝালকাঠি থানা পুলিশের কন্ট্রোল রুমে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে স্বজনরা। লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১জনে দাড়িয়েছে।
ঝালকাঠির পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকায় সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকান্ডে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, এ অগ্নিকান্ডে আহত ৮১ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৬ জনের চিকিৎসা চলছে। ১৬ জনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকান্ডে আহতদের মধ্যে ২১ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ৪ জনকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ১৫ জনের চিকিৎসা চলছে। দুই জনকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই কর্মকর্তা বলেন, আহতদের মধ্যে ৩২ জনের চিকিৎসা চলছে বরিশালে। ৭ সদস্যের চিকিৎসক টিম পাঠানো হয়েছে। তারা সেখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন। আমরা মনিটরিং করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিকিৎসার খরচ বহন করা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ বাড়ি
পাঠানোর ব্যবস্থাও হাসপাতালের পক্ষ থেকে করা হবে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠির কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে। ওই সময় বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া ব্রিফিংয়ে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানান। পরে ঝালকাঠি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রমান্ত কুমার দে ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারজিয়া আক্তার নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃত বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়ায়। এদিকে, ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি
ইনস্টিটিউটে আনার পর হাবিব খান নামে একজনের মৃত্যু হয়, যা নিয়ে লঞ্চে অগ্নিকান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button