জাতীয়শিরোনাম

বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

সোহেল রানা,সাভার (ঢাকা): মহান বিজয় দিবস ও বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ। ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়েছে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা। রাখা হয়েছে নানা রকমের ফুলের গাছ। চলছে তিন বাহিনীর সদস্যদের কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি ও মোটরসাইকেল মহড়া।
সেই সঙ্গে জোরদার করা হয়েছে ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই সাজসজ্জা ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে। প্রথম প্রহরে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার (১৫ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সফরে প্রথম দিনই সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
তাই দুদিন আগেই জাতীয় স্মৃতিসৌধের সব ধরনের কাজ শেষ করেছে গণপূর্ত বিভাগ। স্মৃতিসৌধের ফটক থেকে মিনার পর্যন্ত পুরো এলাকা ধুয়েমুছে চকচকে করা হয়েছে। সৌধ চূড়া পরিষ্কার করার কাজ শেষ। লেকও পরিষ্কার করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে লাল-সবুজ আলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বাহারি ফুলের সমারোহে সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। ধুয়ে-মুছে পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। লাল ইটে সাদা রঙের ছোঁয়া শুভ্রতা ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে লাল টবে শোভা পাচ্ছে বাহারি ফুল গাছ। লেকের পানিতে নতুন করে রোপণ করা হয়েছে লাল শাপলা।
এছাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকার সড়কগুলোতে বাহারি রঙের বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে চারদিক সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় শতাধিক পরিচ্ছন্নতা-কর্মী কাজ করছেন স্মৃতির এ মিনার ধোয়ামোছা আর সাজসজ্জায়। লাল-সবুজ ফুলের সমারোহে ছোট ছোট বাগানগুলোকে সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। চত্বরের সিঁড়ি ও নানা স্থাপনায় হয়েছে রঙ-তুলির কাজ।
এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রায় দুই মাস আগে থেকেই স্মৃতিসৌধ পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানো, লেক সংস্কার, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) স্থাপনসহ সব কাজ পুরোপুরি শেষ।
নবম পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে তিন বাহিনীর সদস্যরা কুচকাওয়াজের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মোটরসাইকেল মহড়ার প্রস্তুতিও চলছে।
মিজানুর রহমান বলেন,মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রস্তুত। আজ ১৫ ডিসেম্বর ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে আসছেন। আমরা আশা করছি তিনি বেলা ১টা থেকে দেড়টার মধ্যেই স্মৃতিসৌধে শহীদদের সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তাই দুদিন আগেই আমরা সব প্রস্তুতি শেষ করেছি।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ হিল কাফি বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিদের এই ভেনুতে অবস্থানকালীন সময়ে তাদের নিরাপত্তার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই আমরা গ্রহণ করেছি।
তিনি আরো বলেন, ১লা ডিসেম্বর থেকেই পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিকিউরিটি ডেপ্লয় করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিজয় দিবস উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পুরো এলাকাজুরে কয়েকশ সাদা পোশাকে এবং পোশাকধারী পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button