আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

নাভালনির মুক্তির দাবিতে রাশিয়াজুড়ে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার কমপক্ষে ৩৫০

বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মুক্তির দাবিতে রাশিয়াজুড়ে রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করে দেশটির পুলিশ। মিছিল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কমপক্ষে ৩৫০ জনকে। দেশজুড়ে কমিয়ে দেয়া হয় মোবাইল ইন্টারনেট স্পিড। এর আগে নাভালনি তার সমর্থকদের দেশব্যাপী আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই শনিবার রাস্তায় নেমে আসেন তার সমর্থকরা। এ খবর দিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে জার্মানি থেকে ফিরলে গ্রেপ্তার করা হয় নাভালনিকে। তার ওপর নোভিচক নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে জার্মানি। রাশিয়ায় বসে অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য জার্মানি যান নাভালনি।
সেখানে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরতেই গ্রেপ্তার হন তিনি। তাকে বিচারপূর্ব সময়ে কারাগারে থাকার নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়ার আদালত। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামলে শুধু রাজধানী মস্কোতেই শতাধিক নাভালনি সমর্থককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখানে প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন সেসময়। পুলিশ প্রথম থেকেই সমাবেশে বাঁধা প্রদান করতে থাকে। এক পর্যায়ে সেখান থেকে পুতিনকে ‘চোর’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করছে। যাদের পারছে গ্রেপ্তার করছে। মস্কো ছাড়াও দেশের বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ হয়েছে।
রাশিয়ার সবথেকে ঠান্ডা শহরগুলোর একটি হচ্ছে ইয়াকুটস্ক। শনিবার সেখানে ছিল মাইনাস ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ সেখানকার এক আন্দোলনকারীর পা ধরে টানতে টানতে ভ্যানে তুলছে। সাইবেরিয়ার শহর নভোসিকিবিরস্কে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরো ৬৭ জন। সব মিলিয়ে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নাভালনির মুক্তির দাবিতে রাশিয়াজুড়ে ৩৬৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া, দেশের প্রায় ৪০ শহরে আন্দোলন হয়েছে।
বিরোধী নেতা দিমিত্রি গুডকোভ বলেন, বর্তমান সরকারের মিথ্যা এবং চুরি দেখতে দেখতে মানুষ বিরক্ত। তাই ছোট ছোট শহরগুলোতেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। যদিও রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, বিক্ষোভকারীরা আইনভঙ্গ করেছেন। তাদেরকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে ক্রেমলিন থেকে বিক্ষোভ স¤পর্কে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button