নোয়াখালীতে আ’লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটক ৫

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে উপজেলা চত্বরে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও তার ছেলে রাজিব হোসেন, মো. শরীফ, আল মাহাদী ফয়সল ও আবুল কালাম।
অন্যদিকে সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক (৪৯), তার ছেলে রাজিব (২০), ওই ইউনিয়নের আব্দুর রবের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৫৫), আব্দুল মমিনের ছেলে এনাম (৩২), ওজি উল্যার ছেলে রাসেল (২৫), ধনু মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম জীবন (৩৬), বেলাল হোসেন (২৫), আবুল খায়েরের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম (২৫), আব্দুল মন্নানের ছেলে আব্দুল মালেক (৪০), তার ভাই আব্দুর রহমান (২৩), দেলোয়ার হোসেন (৩৮), মো. এনাম (৩৩), জামাল উদ্দিন (৩৪), মো. বাহারসহ (৩৫) কমপক্ষে ২০জন আহত হয়। মিয়া ড্রাইভার (৫২), আবদুর রহমানের (৪৯) অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, চরএলাহী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এবং একই ইউনিয়ন সভাপতি সাহাব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি’র মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দন্দ্ব চলে আসছে। ওইদিন সকালে উপজেলা চত্বরে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাসে করে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে বসুরহাট বাজারে আসছিল। মিছিলটি বসুরহাট হাসপাতাল গেইট এলাকায় পৌঁছলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাজিবকে উদ্দেশ্যে করে মিছিলে থাকা কয়েকজন উস্কানিমূলক কথা বলে। এ সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি এবং চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সমর্থিতরা সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাককে প্রধান আসামি করে ১১জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আবদুল গণি জানান, চেয়ারম্যান রেজ্জাকের ব্যক্তিগত ক্যাডার মেহেদী ফয়সাল ও আবুল কালামের নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা করা হয়। এতে আবদুল মালেকের অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় তার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অপরদিকে চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন মেম্বারকে অব্যাহতি দিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মহরম আলীকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে উপজেলা আওয়ামীলীগ সূত্রে জানা গেছে।
চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি তার ভাই বাহার ও ভাগিনা মিন্টুর নেতৃত্বে তাদের লোকজন মিছিলে থাকা আমার ছেলে রাজিবের ওপর অর্তকিত হামলা চালায়। এসময় আমরা তাকে বাঁচাতে গেলে আমাদেরও পিটিয়ে জখম করে তারা।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন মেম্বার অভিযোগ করে জানান, তার লোকজনের ওপর রাজ্জাক চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসীরা হামলা করে কয়েকজনকে আহত করেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও ইউনিয়ন আওয়মীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গনি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত ও কয়েকটি দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জাকসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।




