
স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোর: ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে জনগণের উপর করের বোঝা চাপিয়ে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। বিগত সময়ে ক্ষমতাসীন সাম্রাজ্যবাদের দালাল সরকারগুলোর মতই বর্তমান সরকারও সাম্রাজ্যবাদ বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করছে। যশোর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ সব কথা বলেন এনডিএফ’র নেতৃবৃন্দ।
আজ ১৩ জুন শনিবার দেশব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টায় যশোর অনুষ্ঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট- এনডিএফ প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পালন করে।
যশোরের পাইপপট্টি মোড় থেকে মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়
এনডিএফ’র জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হক লিকু-এর সঞ্চালনায় সমাবেশে জেলা সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ও সদর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আহাদ আলী লস্কর বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রচলিত নয়াঔপনিবেশিক ও আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় সকল সরকারের বাজেটই জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী হয়েছে। নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সকল দালাল সরকারগুলিই বাজেট প্রণয়ণের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করেছে। এসব বাজেট শোষণ-লুণ্ঠনের দলিল হওয়ায় এসব বাজেট জাতীয় ও জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়ে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতর করে তুলেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিবারই লুটপাটের স্বার্থে বাজেটে ক্রমাগতভাবে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ করের জাল বৃদ্ধি করা হয়। সাম্রাজ্যবাদ ও তার বিশ্বসংস্থা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীতি নির্দেশে বাজেটে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির সর্বোচ্চ মুনাফা ও লুটপাটের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাম্রাজ্যবাদের দালাল ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকারের প্রণীত বাজেটও পূর্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে জনগণের উপর করের বোঝা আরও বৃদ্ধি করেছে। অপরদিকে সাম্রাজ্যবাদীদের বিশ্বযুদ্ধ প্রস্তুতির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাজেট পরিকল্পনায় প্রতীয়মান হয়েছে। সরকারের মালিকানায় কোন শিল্প কারখানা না থাকায় অথবা কৃষিকে কেন্দ্র করে সরকারের নিজস্ব কোন পরিকল্পনা না থাকায় দেশের শিল্প ও কৃষি থেকে সরকারের সরাসরি কোন আয় নেই। ফলে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের জন্য একমাত্র নির্ভর করতে হয়েছে জনগণের উপর আরোপিত ভ্যাট-করের উপর। ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত এ বাজেটের ঘাটতি মেটাতে দেশী-বিদেশী মাধ্যম থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকার বেশি ঋণ এবং অনুদান নিতে হবে। এই ঋণ ও ঋণের সুদ শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হয়। নেতৃবৃন্দ প্রস্তাবিত বাজেটের গণবিরোধী দিক তুলে ধরে জনগণকে তা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে প্রচলিত স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানান।




