sliderআন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

৪ মাস পর কেন খামেনির জানাজা, যেভাবে রাখা হয়েছিল মরদেহ

পতাকা ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ও সাত দিনব্যাপী জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার দীর্ঘ চার মাস পর তার মরদেহ থাকা কফিন জনসমক্ষে আনা হলো। এই কর্মসূচিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠান ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে পদচিহ্ন রেখে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় খামেনির প্রথম জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এই বিশাল জমায়েতে অংশ নিতে দেশি-বিদেশি বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষের সমাগম আশা করছে তেহরান প্রশাসন।

জানাজা ও দাফনে চার মাসের বিলম্ব কেন?

ইসলামি রীতিতে সাধারণত মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন করার নিয়ম থাকলেও খামেনির ক্ষেত্রে চার মাসের দীর্ঘ বিলম্ব অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। যুদ্ধের তীব্রতা ও নিরাপত্তার চরম অস্থিতিশীলতার কারণেই মূলত খামেনির প্রকাশ্য দাফন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল তেহরান।

দীর্ঘদিন মরদেহ দাফন না হওয়ায় এটি সাময়িকভাবে সমাহিত করার গুঞ্জন উঠলেও ইরানি কর্মকর্তারা তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তারা নিশ্চিত করেছেন যে, সম্পূর্ণ সময়জুড়ে ধর্মীয় ও আইনি বিধান মেনেই মরদেহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

এতদিন কোথায় এবং কীভাবে ছিল মরদেহ?

ইসলাম শরীয়তে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মরদেহ সংরক্ষণ (এম্বামিং) নিষিদ্ধ হওয়ায় খামেনির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি।

সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, খামেনির মরদেহ প্রায় নিশ্চিতভাবেই রাসায়নিক সংরক্ষণ ছাড়াই বিশেষ হিমায়িত শীতল সংরক্ষণাগারে (কোল্ড স্টোরেজ) রাখা হয়েছিল।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, শিয়া শরিয়াহ অনুযায়ী বিশেষ বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শীতল পরিবেশে মৃতদেহ সংরক্ষণ এবং দাফনে বিলম্বের ধর্মীয় অনুমোদন রয়েছে। যেহেতু ইরানের ফরেনসিক মর্গে আইনি প্রয়োজনে প্রায়শই কয়েক মাস পর্যন্ত মৃতদেহ রাখা হয়, তাই সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ চার মাস হিমায়িত অবস্থায় রাখা কোনো ধর্মীয় বা প্রযুক্তিগত জটিলতার বিষয় ছিল না।

ইরান সরকার এই বিশাল আয়োজনকে জাতীয় ঐক্য ও শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। এই শোকানুষ্ঠানের দাপ্তরিক প্রতীকে খামেনির মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবির সাথে ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ স্লোগানটি ব্যবহার করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button