হার্ডিঞ্জ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ওপরে : রাজশাহীর চরাঞ্চল প্লাবিত
পাবনার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পানি পরিমাপ করার পর এ তথ্য জানিয়েছে।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে আসা ঢলে পদ্মায় বেড়েই চলেছে পানি। এতে রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে জেলার চারটি উপজেলার চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পনিবন্দি হয়েছে পড়েছেন।
ইতোমধ্যেই তারা চরাঞ্চল ছাড়তে শুরু করেছেন। গবাদি পশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ৬০০ পরিবার চরাঞ্চল ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জানান, পদ্মার পানি বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। রাজশাহী শহরে পানি প্রবেশের কোন সম্ভাবনা নেই। শহরের সাথে সংযুক্ত স্লুইসগেইটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেগুলোতে বন্যায় ক্ষতি হবার আশংকা রয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন জানায়, সোমবার পর্যন্ত রাজশাহীর চারটি উপজেলার চররাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। যাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা) ৬০০ পরিবারকে চরাঞ্চল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ কাজ অব্যাহত রয়েছে। সরিয়ে নেয়া লোকজনকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এদের অধিকাংশের উচু এলাকায় নিজের বাড়ি বা আত্ময়স্বজন রয়েছেন। সেখানে গিয়ে তারা উঠছেন। সোমবার বিকেলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে চরাঞ্চলের লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ আসে। মঙ্গলবার সকালে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে চারটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ত্রাণ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হবে।
ভারতের একটি বেসরকারি টেলিভিশন জানাচ্ছে, বিহার ও উত্তর প্রদেশে প্রচণ্ড বন্যা হওয়ায় ফারাক্কার সব লক গেট খুলে দেয়া হয়েছে। তবে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বর্ষায় ফারাক্কার গেটগুলো খোলাই থাকে। এবার বিহার ও উত্তর প্রদেশের বৃষ্টির ও বন্যা পানি আসতে থাকায় পানি বাড়ছেই।




