হামলা ধামাচাপা দিতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে : মির্জা ফখরুল

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চট্টগ্রাম থেকে আজ দুপুর সোয়া ২টায় সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন তিনি।
এদিকে চট্টগ্রামের সিনিয়র নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়ির বহরের হামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ওই আক্রমনে আমাদের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে, সাংবাদিকদের গাড়ি ভাংচুর করা হয়ে্ছে, তারা(সাংবাদিকরা) হামলার শিকার হয়েছেন।
আপনারা সবই জানেন কারা আক্রমন চালিয়েছে, এই আক্রমনকারীরা কারা তা পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে চলে এসেছে। তারা (ক্ষমতাসীন দল) এনিয়ে বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার শুরু করেছে। তারা আমাদর দলর চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতির বিরুদ্ধেও একটা অপপ্রচার চালিয়েছে যেটা প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি কখনোই এসবের মধ্যে ছিলেন না।
আমরা বলতে চাই, এভাবে মিথ্যা কথা বলে, এভাবে জনগনকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। জনগন এখন পরিস্কারভাবে বুঝে নিয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য গণতন্ত্রের প্রচলিত যে নর্মসগুলো রয়েছে, তাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই ঘটনা বিষয়ে আশা করেছিলাম তিনি(ওবায়দুল কাদের) অন্ততঃ এইটুকু করবেন যে, এটাকে নিন্দা করবেন প্রথমেই এবং এটা প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন হামলাকারীদের বের করবার। আর খোঁজার দরকার নেই, তাদের পরিচয় জানা হয়ে গেছে। তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য তিনি চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, এটা না করে তারা (ক্ষমতাসীনরা) যেসমস্ত কথা বলছেন, বলেই যাচ্ছেন। সেটাকে আমরা সুস্পষ্টভাবে মনে করি সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয়া। রাজনীতিকে ধবংস করবার আরেক প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এখনো সময় আছে, এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তাদের উচিৎ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা।
রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার সময়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উখিয়া পর্য্ন্ত ‘মানুষের ঢল’ নামার বিষয় তুলে ধরে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের নেত্রী বলেছেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের যা করা উচিৎ ছিলো, তারা তা করতে পারেনি, সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আমরা প্রথম দিকে বলে আসছি যে এদেরকে আশ্রয় দিয়ে তাদের খাওয়া-পড়ার ব্যবস্থা করা এবং একই সঙ্গে সেই কুটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা যেন সরকারের হাত শক্ত হয় যাতে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে এই সমস্যাকে মোকাবিলা করা। সেটা সরকার করেনি, তারা নাকচ করে দিয়েছেন।।
দেশনেত্রী আহবান জানিয়েছেন, সকল মানুষকে আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সংকট আমাদেরকে মোকাবিলা করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক যেসব সংস্থাগুলো রয়েছে তাদের ওপরে আরো কুটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে মিয়ানমারের সরকারকে বাধ্য করা তারা যেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
চার দিনের সফর শেষে দুপুরে খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে ঢাকায় রওনা হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল এই সংবাদ ব্রিফিং করেন।
এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গিয়াস কাদের চৌধুরী, উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু হাশেম বক্কর, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
নয়া দিগন্ত




