
আমির হোসেন সজিব (ঢাকা): ৩ মে ২০২৫— রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর মহাসমাবেশ। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থক ঢাকায় সমবেত হন।
মহাসমাবেশে সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা সরকারের প্রতি ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
৪ দফা দাবিঃ
১. কারাবন্দি আলেমদের মুক্তি:
হেফাজত দাবি করেছে, এখনো যে আলেমরা কারাগারে আছেন, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। যদিও মামুনুল হক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা এবং অন্য আলেমদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
২. মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার:
২০১৩, ২০১৬ ও ২০২১ সালের ঘটনায় হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
৩. শিক্ষা কারিকুলাম সংস্কার:
হেফাজতের অভিযোগ, বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামে ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বাদ দিয়ে যৌন শিক্ষা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
৪. ১৩ দফা বাস্তবায়ন:
২০১৩ সালের ঘোষিত ১৩ দফা দাবির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যার মধ্যে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করার বিষয়টি অন্যতম।
নেতাদের বক্তব্যঃ
মহাসমাবেশে হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন,
“আলেমদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, পাঠ্যক্রমে ইসলামী শিক্ষা সংরক্ষণ এবং ১৩ দফা দাবি মানা না হলে আমরা নির্বাচনের আগেই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি বারবার আমাদের দাবি উপেক্ষা করে, তবে সারা দেশের তৌহিদি জনতাকে নিয়ে আন্দোলনে নামা হবে।”
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীঃ
সমাবেশকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুরো উদ্যানে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য। অনুষ্ঠান শেষে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সমাবেশ শেষ হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণঃ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে হেফাজতের এ মহাসমাবেশ সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী ভোট ব্যাংককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



