slider

সোনারগাঁয়ের গাছে গাছে ঝাকে ঝাকে শালিকের কিচিরমিচিরে ঘুম ভাঙে মানুষের

আলআমিনকবির, সোনারগাঁ প্রতিনিধি : কিচিরমিচির শব্দ। সুমধুর সুর। পূর্ব দিগন্তের ভোরের আলো ফুটতেই হাজির ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক। অগণিত শালিকের কলকাকলিতে মুখর পুরো এলাকা। এ দৃশ্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের মোগড়াপাড়া বাজার বটগাছ তলায় । দেশি শালিক পাখির আনাগোনায় জায়গাটি পরিণত হয়েছে পাখিদের অভয়ারণ্যে। খাবারের লোভে মানুষের কাছে ছুটে আসে শত শত শালিক পাখি। সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন রকমের আমেজ আর রূপ।
মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বুনো শালিকও ভয়কে জয় করে মানুষের কাছে ছুটে আসছে। শালিক আর মানুষের ভালোবাসার এমনই ভিন্ন এক নজির সৃষ্টি করেছে এখানে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া বাজার বটতলায় এখন যেন পাখিদের অভয়ারণ্য। অন্যান্য পাখির সংখ্যা কম। শালিক পাখির সংখ্যাই বেশি। দীর্ঘদিন ওই এলাকায় অসংখ্য শালিক পাখি বিচরণ করছে। প্রতিদিন ভোর হলেই খাবার খেতে দল বেধে ছুটে আসে শত শত শালিক। আর ওই পাখিদের মহা আনন্দে খাবার খাওয়ানোর জন্য ছুটে আসে প্রকৃতি প্রেমীরা। স্থানীয়রাও আদর করে খেতে দেয় শালিকদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূবের লাল সূর্য তখন উঁকি দিচ্ছে। মোগড়াপাড়া বাজার রাস্তাগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। মানুষের ভিড় বাড়ছে। দল বেধে রাস্তায় উড়ে আসছে শত শত বুনো শালিক। বিদ্যুতের তার, খুঁটি, দোকান ঘরের টিনের চালা, গাছ-পালায় সারি বেধে বসছে তারা। ধীরে ধীরে মোগড়াপাড়া বাজারের পুরো চত্বরে মানুষ আর শালিকের আনাগোনা বাড়তে থাকে।
এরইমধ্যে প্রকৃতি যেন সাজে নতুন রুপে। মুহূর্তেই বিদ্যুতের তার আর দোকানের চাল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক উড়ে এসে মহাভোজে যোগ দেয় মনের আনন্দে।
এ ব্যাপারে মোগড়াপাড়ার বাসিন্দা বাসিন্দা সংবাদকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ এখানে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। স্থানীয় দোকানদাররা ও আগত মানুষেরা এভাবেই খাবার খাইয়ে পাখিগুলোর বন্ধু হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন ভোরে এমন এক নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করেন আটরশি চত্বরের দোকানি আর পথচারী সাধারণ মানুষ।
প্রকৃতি প্রেমী সংবাদকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এখানে খাবার খাওয়ানোর কারণে দিন যত যাচ্ছে পাখির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। প্রকৃতির প্রতি এবং পাখিদের প্রতি যদি ভালোবাসা রাখা যায় তবে প্রকৃতিটা সুন্দর থাকবে।
সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখিদের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। পাখিরা যেহেতু কোনো ক্ষতি করে না সেহেতু এদেরকে বাঁচিয়ে রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
সারা বছরই নানা জাতীয় দেশি পাখির আনাগোনা থাকে। আর এই বুনো শালিক পাখির ঝাঁকের দেখা মিলছে মূলত করোনার শুরুর দিক থেকে। প্রতিদিনই যেন শালিকের সংখ্যা ও ভিড় বাড়ছে। আশপাশের কোথাও এদের কোনো দেখা না মিললেও এখানে যেন ওরা ফিরে পেয়েছে তাদের আপন ভুবন।
এ ব্যাপারে মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু বলেন, ভালোবাসার বিনিময়ে অনেক কিছুই জয় করা সম্ভব। সেই ভালোবাসারই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে এখানে। পাখিদের সঙ্গে মানুষের যেন মিতালি আর সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। এই সেতুবন্ধন টিকে থাক বছরের পর বছর৷
শালিক পাখিও পোষ মানে। এরা মানুষের ভাষা বোঝে। মানুষের সঙ্গে মিতালি করে। শালিক পাখির বিলুপ্তি রোধে প্রজনন ক্ষেত্র বাড়ানোর জন্য আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button