সীমিত পরিসরে বিপণি বিতান খুললেও ক্রেতা নেই

সরকারি নির্দেশনার পর আজ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সীমিত পরিসরে বিপণি বিতান খোলা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে খুললেও ক্রেতাদের আনাগোনা খুব একটা নজরে পড়ছে না। অনেকটাই ক্রেতা সংকটে ভুগছেন দোকানিরা। আর যারাও দোকানগুলোতে আসছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতাও তেমন একটা চোখে পড়ছে না। রাজধানীর মিরপুরসহ বেশ কিছু বিপণি বিতান ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।
ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে অল্প পরিসরে সকাল থেকে মার্কেট খুলেছি। তবে বেলা বাড়লেও মার্কেটে ক্রেতা নেই বললেই চলে। অনেক দোকানদার এখন পর্যন্ত একটা কাপড়ও বিক্রি করতে পারেননি। যাও দু’একজন ক্রেতা মার্কেটে ঢুকছেন দেখে শুনে চলে যাচ্ছেন, কিনছেন না। জানি না আগামী দিনগুলো কী অবস্থায় যাবে বুঝতে পারছি না।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিবছর এসময় দোকানে তিনজন লোক কাজ করে। বিক্রি করে সময় পাই না অথচ এসময় সকাল থেকে বসে আছি দোকানে বউনি পর্যন্ত হয়নি। ক্রেতা একেবারেই নেই বললেই চলে।
তবে সকাল থেকে প্রতিটি মার্কেটের প্রবেশ মুখেই হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবস্থা দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক দোকানিই হ্যান্ডস্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রেখেছেন। কাস্টমার যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে হ্যান্ডস্যানিটাইজার দিতে উৎসাহিত করছেন বিক্রেতারা। এছাড়া ক্রেতারা মার্কেটের প্রবেশ মুখ থেকেই হাত পরিষ্কার করেই মার্কেটে প্রবেশ করছেন। তবে দোকানগুলোর ভেতরেও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বৃত্তের ব্যবস্থা করলেও খুব একটা মানা হচ্ছে না।
এদিকে সরকার অনুমতি দিলেও শপিংমল থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় বসুন্ধরা সিটি শপিংমল ও যমুনা ফিউচার পার্ক খুলেনি। একইসঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে প্রায় ৯৫ শতাংশ শপিংমলও বন্ধ রয়েছে।
অপরদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের বাজার করার জন্য শপিংমলে ভিড় বাড়বে। আর এ ভিড় থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।
গত ৪ মে সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয়, সারাদেশের দোকানপাট, শপিংমলগুলো আগামী ১০ মে থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এর আগে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা ছিল। পরের নির্দেশনায় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে।
ইত্তেফাক




