দেশে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ লাখ ২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ। অপরপক্ষে ২০ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় ৬০ জন মনুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য গঠিত নিডস অ্যাসেসমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে ২১ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। এমন খবর প্রকাশ করে বণিক বার্তা।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার দেশের ১৩৪টি উপজেলার ৮৬৯টি ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৪৫। সব মিলিয়ে বন্যায় সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়া ঘরবাড়ির সংখ্যা ২৭ হাজার ১৭০। আংশিক বিনষ্ট হয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৬টি। এছাড়া আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৭২। সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০টি স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, উত্তরবঙ্গের দুই প্রধান নদী ব্যবস্থায় (যমুনা ও তিস্তা) পানির স্তর এবার ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থায় পানির স্তর ২৫ জুলাই পর্যন্ত একটানা কমবে। কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হয়ে পরবর্তী পাঁচদিনে তা স্থিতিশীল থাকবে। এসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরো সাতদিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যায় ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ১২ দিনের বন্যায় ২৪ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৮৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়েছে। আংশিক বিনষ্ট হয়েছে ৮১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমির ফসল।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের সিংহভাগই আমন ধান বলে । এছাড়া ফসলের মতো গবাদিপশু, মত্স্যসম্পদ ও পোলট্রি খাতও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন মতে, বর্তমানে ৫৩টি নদ-নদীতে পানি কমতে দেখা যাচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। যদিও এর সঙ্গে দুর্ভোগও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও নাজুক অবস্থানে থাকা অন্যদের মধ্যে এ দুর্ভোগের মাত্রা তুলনামূলক বেশি। বন্যায় আক্রান্ত অন্যান্য অঞ্চল থেকে বন্যার পানি কমার খবর পাওয়া গেলেও সিলেট ও লালমনিরহাটে পরিস্থিতির ফের অবনতি ঘটার তথ্য উঠে এসেছে।




