“সাজানো হাসপাতাল, অদেখা জনদুর্ভোগ: ভিআইপি সফরে ‘নিখুঁত’ বাংলাদেশ, বাস্তবতা রয়ে গেল আড়ালে”

আমির হোসেন সজিব: রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আজ অনুষ্ঠিত হলো এক উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন। নবাগত প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও চিকিৎসক ডা. জোবায়দা রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে হাসপাতালজুড়ে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি।
সকালের শুরু থেকেই হাসপাতাল এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতার বিশেষ ব্যবস্থা এবং ভিআইপি প্রোটোকলের নিখুঁত বাস্তবায়ন। গুলশান থেকে নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করে তাকে হাসপাতালে আনা হয়—রাস্তার যানজট, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি—এসবের কোনো চিহ্নই ছিল না এই সফরে।
হাসপাতালের ভেতরেও দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। ঝকঝকে পরিবেশ, সুশৃঙ্খল সেবা এবং কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা বা সীমাবদ্ধতার ছাপ নেই—যেন এটি বাংলাদেশের একটি আদর্শ সরকারি হাসপাতালের মডেল।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই চিত্র কি বাস্তব?
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাধারণ রোগীদের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিদিন এই হাসপাতালসহ দেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়,শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়, ওষুধ ও সেবার ঘাটতি নিত্যদিনের বাস্তবতা।
অভিযোগ রয়েছে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগে প্রকৃত চিত্রকে আড়াল করে একটি ‘সাজানো বাস্তবতা’ তুলে ধরা হয়। ফলে যারা নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত, তারা দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা পান না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে যারা সিদ্ধান্ত নেন, তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা দেখেন না; বরং প্রশাসনিক স্তরের তথ্যের ওপর নির্ভর করেন। আর সেই তথ্য যদি বাস্তবতা প্রতিফলিত না করে, তাহলে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হওয়া তো দূরের কথা—সমাধানের সুযোগও তৈরি হয় না।
এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের বৃহৎ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী—যারা প্রতিদিন চিকিৎসা, খাদ্য, গ্যাস বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার সংকটে ভোগে, কিন্তু তাদের সেই কণ্ঠ উচ্চপর্যায়ে পৌঁছায় না।
আজকের এই সফর তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—দেশের বাস্তব সমস্যা কি ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হচ্ছে?
শেষ কথা:
যদি সমস্যাকে সমস্যা হিসেবে দেখানো না হয়, তাহলে উন্নয়নের দাবি যতই জোরালো হোক, তা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে না। বাস্তবতাকে আড়াল করে নয়, বরং তুলে ধরেই সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে—এটাই এখন সময়ের দাবি।



