সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা (অনুশীলন ৮৩): ‘দাদা-দাদীর কাছ থেকে শিখুন’
প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এ নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ৮৩ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে।
অনুশীলন ৮৩: ‘দাদা-দাদীর কাছ থেকে শিখুন’
আপনি যদি সত্যিকার অর্থে ভাগ্যবান হন, তবে দাদা-দাদীর সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন যারা আপনাকে ভালোবাসবেন, যত্ন করবেন এবং পত প্রদর্শন করবেন। পরিবারের বুযুর্গ ব্যক্তিগণ যেমন দাদা-দাদি, নানা-নানি আপনার ভেতরে জ্ঞান, বোঝাপড়া করার ক্ষমতা এবং আন্তরিকতা সঞ্চার করে থাকেন। তাদের সঙ্গে আপনার রক্তের সম্পর্ক, সুতরাং তাদের ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা ও লক্ষ্য আপনার ভেতরে আপনাআপনিই চলে আসে। তারা আপনাকে বোঝেনও ভালো করে এবং আপনার স্বপ্ন ও লক্ষ্য অর্জনে আপনাকে সাহায্য করেন ব্যাপকভাবে।
আপনি বাবা-মা, বন্ধু কিংবা ভাই-বোনকে যেভাবে ধোঁকা দিতে পারেন, সেভাবে কোনভাবেই দাদা-দাদিকে ধোঁকা দিতে পারবেন না। বছরের পর বছর তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান হয়েছে যার ফলশ্রুতিস্বরুপ তারা আপনার যুক্তি, বিবাদ, নিরাপত্তাহীনতা সবকিছুর ব্যাপারেই ভালো ধারণা রাখেন।
যতোই বৃদ্ধ হোক না কেন, দাদা-দাদিদের মতন বিশ্বাস আপনি কাউকে করতে পারবেন না। তাদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তাদের সঙ্গে নিজ ধারণা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ভয়-ভীতি এবং স্বপ্ন নিয়ে মুক্তমনা হয়ে আলোচনা করুন।
জীবনে অনেক কিছু দেখে, অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চার করে তারা একটি অধ্যায়ে পৌছেছেন। বিভিন্ন অংশ থেকে সাফল্য, ব্যর্থতা, জরা, ব্যাধি সবকিছু দেখেছেন তারা। তাই কোন সুযোগ গ্রহণ করতে হবে এবং কী হাতছাড়া করতে হবে সে ব্যাপারে তাদের চাইতে ভালো আর কে বুঝবে বলুন?
তাদের সঙ্গে সময় কাটান
যদি সম্ভব হয়, দাদা-দাদির সঙ্গে একটু বেশি সময় কাটান। নিজের মতন একটু সময় বের করে তাদের সঙ্গে বসুন এবং আপনার সমগ্র জীবন, পরিকল্পনা, কর্ম সবকিছু নিয়ে কথা বলুন।
পারলে তাদের সঙ্গে করে দূরে কোথাও ঘুরে আসুন। আমি একবার গাড়ি চালিয়ে আমার নানিকে নিয়ে ইয়র্কশায়ার থেকে ওয়েলস পর্যন্ত ভ্রমণ করেছিলাম। সেখানে তিনি পুরনো প্রতিবেশীদের সঙ্গে দেখা করলেন, স্মৃতিচারণ করলেন, আমার মায়ের শৈশবের স্কুল দেখালেন। সত্যিই ভ্রমণটা আমার দৃষ্টি প্রসারিত করে দিয়েছিলো। ভবিষ্যতে ভালো কোন অবস্থানে পৌছতে নিজের ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা খুব জরুরী।
শুধুমাত্র দাদা-দাদির সঙ্গেই নয়
আপনার দাদা-দাদি অনেকদিন আপনার সঙ্গে বেঁচে থাকবেন না, এটিই স্বাভাবিক। সুতরাং, পরিবারের অন্য কোন বয়স্ক সদস্য কিংবা পুরনো কোন বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটান। নিজের অতীতকে সুন্দরভাবে জানার জন্যে এটি খুব গুরুত্বপূর্ন। একটা তালিকাও বানাতে পারেন যে কার কার সঙ্গে দেখা করবেন। ভালো কাটবে সময়গুলো।
তাদের গল্প সংগ্রহ করুন
কোন আত্মীয়ের কাছে পরিবারের ইতিহাস কিংবা গল্পের কথা জানতে চাওয়া বেশ দারুণ একটি অনুশীলন। আপনি একই সঙ্গে খুব আবেগী ও অনুপ্রাণিত বোধ করবেন সেগুলো শুনে। আপনি চাইলে সেগুলো কাগজে টুকে রাখতে কিংবা ছবি তুলে রাখতে পারেন। বর্তমান যুগের ব্যস্ত সময় থেকে নিজেকে সতেজ ও ফুরফুরে রাখার এটি একটি ভালো উপায়!
প্রিয়.কম



