১০০ টি বিষয় যা সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন: অনুশীলন ১৭ ‘
আপনার নিয়ন্ত্রিত বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দিন’

বুশরা আমিন তুবা

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজ ফর সাকসেসফুল লিভিং’ অর্থাৎ, ‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের জন্য ছোট্ট অনুশীলন।’ সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ১৭ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।
অনুশীলন ১৭- ‘আপনার নিয়ন্ত্রিত বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দিন’
যে বিষয়গুলো আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করুন। এটি পুরোটাই সময়ের অপচয়। সে সময়টা অন্য কোথাও লাগালেও আপনি সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে পারবেন। আমি আমার কোচিং সেশনের অনেকটা সময় মানুষকে বোঝাই কীভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমি দেখে অবাক হই যে কীভাবে অনেকেই অনিয়ন্ত্রিত ব্যাপারগুলো নিয়ে মাথা ঘামায় এবং দিনভর অভিযোগ করতে করতে সময় নষ্ট করে। এর সমাধান একটাই, যে জিনিসের উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ আছে সেটির পেছনেই সময় ব্যয় করুন।

সাম্প্রতিক সময়ে আপনি কী নিয়ে অভিযোগ করেছেন যেটি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে? সেটা হতে পারে খারাপ আবহাওয়া, আপনার সহকর্মী আপনাকে নিয়ে কি ভাবেন, এমনকি আপনি ছুটি কাটাতে বাইরে যাবেন সেটি নিয়ে। যখন আপনি চাকরি খোঁজেন, আপনি কি সব কোম্পানি নিয়েই অভিযোগ করেন যারা আপনার ইমেইলের উত্তর দেয়নি নাকি আপনি কীভাবে সাফল্যের পথে হাঁটবেন, তা নিয়ে ভাবেন? ধরুন আপনি কোনো ডেটিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন কিন্তু আপনার প্রোফাইল খুব একটা দেখছে না মানুষজন। এখন আপনি কী করবেন? প্রোফাইল বন্ধ করে টাকা ফেরত চাইবেন নাকি কোনো বন্ধুকে বলবেন প্রোফাইল সুন্দর করে গুছিয়ে দেওয়ার জন্য?
আমাদের জীবনে কোনটি নিয়ন্ত্রণের ভেতরে আর কোনটি বাইরে সেটি নির্ধারণ করা খুব কষ্টকর। কিন্তু আপনি কি ভুল জিনিসের উপর মনোনিবেশ করে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চান?
পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করুন
‘যেসব বিষয় বদলানোর ক্ষমতা আমার নেই, সেগুলো মেনে নেওয়ার শক্তি দিন আমাকে। যেগুলো আমি বদলাতে পারি, সেগুলো বদলানোর ক্ষমতা দিন এবং ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারার সামর্থ্য দিন।’ এগুলো সেইন্ট ফ্রান্সিস অব আসিসি’র অনেক আগে বলা কিছু পুরনো কথা। পুরনো হলে কী হবে? কথাগুলো কিন্তু সত্য। তার কথাগুলো অনুসরণ করুন। এতে আপনি আরো শান্তিপূর্ণ জীবন পাবেন।
বোঝার চেষ্টা করুন আশেপাশে কী হচ্ছে। আপনার নিয়ন্ত্রিত বিষয়গুলোর উপর মনোনিবেশ করার চেষ্টা করুন। আপনার সক্ষমতা আছে আপন স্বপ্ন পূরণের। আপনার মুক্ত চিন্তা, প্রতিক্রিয়া, আবেগ, মনোযোগ লক্ষ্য ও বিশ্বাসই আপনাকে সাহায্য করবে। আপনি যদি এগুলো ব্যবহার করেন, তবে যেকোনো চ্যালেঞ্জ খুব সহজেই মোকাবিলা করতে পারবেন। সঠিক সিদ্ধান্ত নিন এবং সঠিকভাবে সবার সাথে ব্যবহার করুন।

কোনো কিছু সহজে পরিবর্তন করা না গেলে আপনার সাধারণ জ্ঞান কাজে লাগান। অন্তত নিচের ব্যাপারগুলোর ক্ষেত্রে:
* অন্য মানুষের পছন্দ, সিদ্ধান্ত এবং মানসিক প্রতিক্রিয়ায়।
* কোনো গ্রুপের সিদ্ধান্তে।
* প্রাকৃতিক যেকোনো সিদ্ধান্তে।
* অসুস্থতা এবং দুর্ঘটনায়।
আর কোনো দোষারোপ নয়
আপনি কী করতে পারবেন আর না পারবেন সে বিষয়ে স্পষ্ট হোন। মানুষকে দোষারোপ করা বন্ধ করুন।
* এটা আমার দোষ নয় যে আমি বাড়াবাড়ি করেছি। ও আমাকে রাগিয়ে দিয়েছিল।
* ও আমার জন্মদিন ভুল গিয়েছিল। তাই আমি কেন ওরটা মনে রাখবো?
* কেউই সময়মতো আসে না, তাহলে আমি কেন যাব?
* পুরো দলে কেউই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করছে না, তাহলে আমি কেন করব?
অনুশীলনের প্রয়োজন হবে ঠিকই। কিন্তু আপনি একদিন আপনার পছন্দমতন পথে অবশ্যই চলতে পারবেন।
সুত্র : প্রিয়.কম



