১০০ টি বিষয় যা সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন: প্রথম অনুশীলন- ‘আপনার স্বপ্নগুলোকে অনুসরণ করুন’

: বুশরা আমিন তুবা :
এক্ষেত্রে নাইজেলের সর্বশেষ বইটি বেশ সাহায্য করতে পারে।
এ বইটি একুশ শতকে আপনি সফল হওয়ার জন্য কেমন জীবন-দর্শন মেনে চলবেন, সেই ব্যাপারে পরিপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিবে। পৃষ্ঠাগুলো উল্টালেই আপনার চোখে পড়বে কীভাবে ব্যক্তিজীবনে, পারিবারিক জীবনে, কর্মজীবনে এমনকি সুন্দর ও সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য অপূর্ব কিছু দিক-নির্দেশনা। সফলতা বলতে আপনি আসলে কী বোঝেন এবং এগুলোকে কীভাবে কাজে লাগাবেন তাও আপনি জানতে পারবেন এই বইটি পড়ে।
নাইজেল একজন সার্টিফিকেটধারী প্রশিক্ষক এবং তিনি ‘স্টেকহোল্ডার সেন্টারড কোচিং’ বিষয়ে একজন অভিজ্ঞ মানুষ। বইটিতে একশটি ধারণা ও নির্দেশনা দেওয়া আছে যেগুলো সাফল্যের উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে আপনাকে সাহায্য করবে।
আমি মুখবন্ধের শুরুতেই বলেছি যে, আমরা প্রত্যেকে জানি আমাদের স্বপ্ন কী বা আমরা কী হতে চাই। কিন্তু সেই মানুষটা হওয়া বেশ শক্ত। তবে এখনই সময় আপনাকে যে জিনিসগুলো বাধা দিচ্ছে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার।
সুতরাং, বইটি পড়ুন। বইয়ের কথামতো কাজ করুন এবং পরিবর্তন নিজের চোখেই দেখুন।
(ড. মার্শেল গোল্ডস্মিথ ‘আমেরিকান ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন’ এর মনোনীত পঞ্চাশজন চিন্তাবিদ ও ব্যবসায়ীদের একজন। তাঁরা গত আশি বছরে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। মার্শেল ২০১৫ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক প্রতিযোগিতায় ‘লিডারশিপ থিংকার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।)

লেখক প্রসঙ্গে: নাইজেল কাম্বারল্যান্ড ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এটি একটি নামকরা নির্বাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেটি সারা পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। তিনি হংকং, বুদাপেস্ট, সান্তিয়াগো, সাংহাই এবং দুবাইয়ের মতো স্থানে থেকেছেন এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে, নাইজেল মাল্টিন্যাশনাল ফিন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে এবং বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করতেন। তিনি হংকং ও চায়নায় অবস্থিত পুরস্কারপ্রাপ্ত একটি রিক্রুট্মেন্ট ফার্মও প্রতিষ্ঠা করেছেন। নাইজেল পড়াশোনা করেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নির্বাহী কোচ এবং ট্রেইনিং প্রফেশনাল। অধিকহারে বিক্রয় হওয়া তার কয়েকটি বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘সিক্রেট্স অব সাকসেস অ্যাট ওয়ার্ক: ফিফটির টেকনিকস টু এক্সেল’ (২০১৪), ‘ফাইন্ডিং এন্ড হাইয়ারিং ট্যালেন্ট ইন আ উইক’ (২০১৬), ‘লিডিং টিমস ইন আ উইক’ (২০১৬)।
ব্যক্তিগত জীবনে নাইজেলের এক স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। স্ত্রী এভলিন একজন সফল চিত্রশিল্পী। পুত্র জেব এবং সৎ-কন্যা ইয়াসমিন।
ভূমিকা:
সফলতা বলতে আপনি কী বোঝেন? আপনার জীবনে আপনি কেমন সফলতা চান? সফলতা বলতে বোঝায় যেকোনো পরিপূর্ণ লক্ষ্য, স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
ব্যাপারটা আপনার কাছে খুব ব্যক্তিগত এবং নিজস্ব। আপনার স্বপ্ন অন্য যে কারো কাছে ধ্বংসের কারণ হতে পারে। যেমন ধরুন, আপনি হতে চান একজন বিখ্যাত রাঁধুনি। অন্যদিকে হয়তো আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু রান্না ভালোবাসেন না!
সাফল্যময় জীবন বলতে বোঝায় যে, আপনি আপনার লক্ষ্য এবং স্বপ্নগুলোকে পরিপূর্ণরুপে সফল করতে পেরেছেন।
সেক্ষেত্রে এ বইটিকে আপনি একটি ‘গাইড’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। একদম ছোট্ট কোনো স্বপ্ন থেকে বড়সড় যেকোনো লক্ষ্য পূরণে বইটি আপনাকে সাহায্য করবে।
এখন একটু চিন্তা করুন। সফলতা কেমন হতে পারে?…
প্রমোশন পেয়ে?
কাজে নেতৃত্ব পেয়ে?
ওজন কমিয়ে?
প্রতিদিন ভোরে জগিং করে?
একজন প্রকাশিত লেখক হয়ে?
স্বাস্থ্য ভালো থাকা অবস্থায় অবসরে গিয়ে?
সন্তান বড় করে?
শান্তিতে বসবাস করে?
একটি নির্দিষ্ট পদবী লাভ করে?
জীবনে কিছু অপূর্ব মানুষ পেয়ে?
বিদেশী ভাষা শিখে?
ভয়ংকর কোনো অসুখ থেকে সুস্থ হয়ে?
নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমিয়ে?
কাজকে ভালোবেসে এবং কখনো বোঝা মনে না করে?
আপনার যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থেকে?
এগুলো শুধুমাত্র কয়েকটি উদাহরণের সমষ্টি যা আমি আমার ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে শুনেছি ও জেনেছি। এখন একটু সময় বের করে আপনার নিজের তালিকা বের করুন। সেগুলো পরিপূর্ণ হওয়ার কোনো দরকার নেই। শুধু খেয়াল রাখবেন, আপনি যেন নিজের কাছে নিজে সৎ থাকেন। যেমনভাবে চিন্তাগুলো বের হয়, তাদেরকে সেভাবেই বের হতে দিন।

আপনার তালিকা হয়তো অসীম মনে হচ্ছে। কিন্তু একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত- এগুলো আপনার দিনই বদলে দেবে। আমাদের স্বপ্ন ও লক্ষ্যগুলো কিন্তু ক্ষণে ক্ষণে বদলায়।
এই একশটি অধ্যায় আপনাকে পুরোপুরিভাবে সফল হতে সাহায্য করবে। এ ধারণাগুলো আপনার জীবনের সকল ক্ষেত্রেই কাজে লাগানো যাবে। যেমন;
কর্মক্ষেত্র
সম্পর্ক
ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র
ধনসম্পদ
স্বাস্থ্য ও শান্তি
শিক্ষা এবং
অবসর
প্রত্যেক অধ্যায়েই নতুন নতুন ধারণা আছে যা আপনাকে সফলতার পথে নিয়ে যাবে। প্রথম পৃষ্ঠায় ধারণাগুলো ব্যাখ্যা করা আছে এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় সেগুলো কীভাবে চর্চা করবেন, তা বলা আছে। পদক্ষেপগুলো ছোট হোক, কিন্তু তা শুরু করুন আজ থেকেই।
কিছু কাজ আপনার কাছে নতুন বলে মনে হতে পারে। আবার কিছু কাজ একেবারেই সাধারণ আছে। যেটা যেমনই হোক, সেগুলো কাজে লাগানো হলো গুরুত্বপূর্ণ। আইডিয়াগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন আপনি খুব সহজেই নতুন অভ্যাস গঠন করতে পারেন এবং সেগুলো অনুযায়ী কাজ করতে পারেন।
যদি কোনো আইডিয়া আপনার কাছে একেবারেই অন্যরকম লাগে, তবে সেটি রেখে দিন। কিছুদিন পর আবার ফিরে আসুন। লেগে থাকুন। জয় হবে আপনারই।
সফলতা নিয়ে বলার আমি কে?
গত ১৫ বছর ধরে আমি কোচিং করাচ্ছি এবং দেশে-বিদেশের বিভিন্ন মানুষকে ট্রেইনিং দিচ্ছি, সে ধারণার আবহেই বইয়ের কাজে হাত দেওয়া। আমি এখানে সফলতার ১০০ টি বিভিন্ন পন্থা বের করেছি, যেগুলো অনুসরণ করলে সফলতা আপনার দ্বারপ্রান্তে যেতে বাধ্য।
আমি খুব কঠোর অনুশীলন করেছি আমার লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য। এক্ষেত্রে যেকোনো ব্যর্থতাকেও আমি সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এ পর্যায়ে আমি আমার জীবনের কিছু অধ্যায় পাঠকদের সাথে ভাগাভাগি করতে চাই।
আমি একটি সুস্থ সম্পর্কে জড়িত আছি। আমার স্ত্রী ও সন্তান দিয়ে আমার সংসার পরিপূর্ণ।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি পড়াশোনা করেছি এবং মাত্র ২৬ বছর বয়সে ফিন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।
ভ্রমণের স্বপ্ন আমার বরাবরই ছিল। আমি আটটিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছি।
একটি কোম্পানি সহ-প্রতিষ্ঠা করেছি এবং কয়েক গুণ বেশিতে সেটি বিক্রয় করেছি।
একজন সফল লেখক ও বক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছি।
মানুষকে কোচিং অনুশীলনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে আমার স্বপ্ন পূরণ করেছি।
আমার জীবনে বর্তমানে কী আছে সেটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করেছি। এটিই সম্ভবত আমার এ যাবৎকালের পরিপূর্ণ সফলতা।
আমি পাঠককূলের সবাইকে শুভকামনা জানাচ্ছি এবং আশা করছি সবাই নিজ নিজ স্থানে থেকে সফলতা লাভ করবে।

প্রথম অনুশীলন: আপনার স্বপ্নগুলোকে অনুসরণ করুন
স্বপ্ন আপনার সফলতার ক্ষেত্রে জ্বালানী হিসেবে কাজ করে। সেগুলো ছাড়া আপনি কোনোভাবেই সাফল্যের উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারবেন না। কোনো গাড়ি যেমন জ্বালানী ছাড়া চলতে পারে না, ঠিক তেমনি আমাদের জীবন স্বপ্ন ছাড়া সাফল্য লাভ করতে পারে না।
প্রত্যেক সফল মানুষের পেছনেই তার একটি পরিপূর্ণ স্বপ্ন জড়িত। আমি অনেক সফল মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং তাদের প্রত্যেকেই আপন আপন স্বপ্ন পূরণ করেই সফলতার শীর্ষে আরোহণ করেছেন। সেটা হতে পারে তাদের ছেলেবেলার স্বপ্ন কিংবা বোধশক্তি হওয়ার পরের স্বপ্ন। সেটা ব্যাপার না, মূল কথা হলো তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন স্বপ্ন পূরণের জন্য। এই স্বপ্নই একদিন লক্ষ্যে পরিণত হয় সফল হওয়ার জন্য।
বুদ্ধি হওয়ার পর আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে আমরা আসলে কী ভালোবাসি। অন্য মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষা আমরা নিজের বলে ধরে নিই এবং সেই পথে নিজেদের চালাতে থাকি। আমি আমার একটি কষ্টের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করছি। আমি ভূগোল খুব বেশি ভালোবাসতাম কিন্তু অন্যদের দেখাদেখি অর্থনীতি পড়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার নিজের স্বপ্নের পথে না হেঁটে শেষমেশ আমি একজন একাউন্টেন্ট হই। আপনিও কি আপনার জীবনের সাথে এমন করেছেন? করে থাকলে এখনই নিজেকে সংশোধন করুন।
সফল ব্যক্তিরা কখনোই নিজেদের স্বপ্ন ও লক্ষ্যকে ভোলেন না। তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পথ তৈরি করে নেন এবং সে অনুযায়ী হেঁটে চলেন। উদাহরণস্বরুপ স্টিভ জবসকে ধরা যায়। তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন।
নিজেই নিজের স্বপ্নকে জানুন:
আপনার স্বপ্ন কী? আপনি আসলে কী অর্জন করতে চান? কেমন স্বপ্ন আপনার দেখা উচিত?
শব্দ, ছবি কিংবা আঁকিবুঁকি করে আপনার স্বপ্নের একটা তালিকা বানান। এই তালিকা আপনার স্বপ্ন ও সেগুলো পূরণের সেতু হিসেবে কাজ করবে। নিচের প্রশ্নগুলো এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে:
ছোটবেলায় আপনি কী করতে ভালোবাসতেন এবং কী হতে চেয়েছিলেন?
অর্থ যদি বড় ব্যাপার না হতো, তাহলে কেমন জীবন আপনি যাপন করতেন?
আপনার জীবনের কোন অংশ আপনি খুব আপনভাবে ভালোবাসেন?
অবসর সময়ে আপনি কী করতে ভালোবাসেন?
আপনার বন্ধু কিংবা সহকর্মীর জীবনের কোন কোন দিক আপনার মনে হিংসে জাগিয়ে তোলে?
আপনার স্বপ্নকে বিশ্বাস করুন:
আপনার স্বপ্নগুলোকে আপনি কীভাবে পূরণ করবেন, তা নিয়ে একটু ভাবুন। খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন যে আপনার মন অনেক নেতিবাচক কথা শুরু করে দিয়েছে। এমনই হয়। যখনই আপনি কোনো একশন নিতে চাইবেন, আপনার মন ঠিক সেই মুহূর্তেই আজেবাজে চিন্তা ঢুকিয়ে দেয় মনের মধ্যে। তাই এসব চিন্তা মন থেকে সরিয়ে শক্তি ও সাহস নিয়ে আপনাকে কাজ করে যেতে হবে।
স্বপ্ন পূরণের রাস্তা নিজেই তৈরি করুন:
আপনার স্বপ্নগুলো আপনি কীভাবে পূরণ করবেন এটা ভাবতে খুব ভীতিজনক লাগতে পারে। এই বইয়ের বাকী ৯৯টি পন্থা আপনাকে ভয় দূরীকরণে সাহায্য করবে। আপনি এখন কোথায় আছেন এবং ভবিষ্যতে কোথায় যেতে চান, সবই আপনাকে জানতে হবে। এটা খুব সহজ নয়। তাই আমি আমার পাঠকদের অনুরোধ করবো, আপনার মতোই স্বপ্ন যাদের আছে, তাঁরা সবাই একসাথে বসে পরিকল্পনা করুন এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যান। শুভকামনা রইলো।
প্রিয় ক্যারিয়ার/প্রিয়.কম



