পতাকা ক্যারিয়ার

সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা (অনুশীলন ৭৫): ‘জীবনের বড়সড় লক্ষ্যের কথা মাথায় রাখুন’

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এ নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ৭৫ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে।
অনুশীলন ৭৫: ‘জীবনের বড়সড় লক্ষ্যের কথা মাথায় রাখুন’
ছোটখাটো ব্যাপারগুলোই জীবনে মাঝেমধ্যে বেশ পীড়াদায়ক হতে পারে। আপনার বেতন বাড়ানোর কথাই হোক কিংবা কেউ আপনার পার্কিং স্পেস নষ্ট করছে- কারণ যেটাই হোক সেগুলো যথেষ্ট বিরক্তিকর হতে পারে।
লেখক ডেনিস শার্প বলেছেন, তুচ্ছ এমন বিষয়ের উপর কেন নির্ভর করে থাকেন আপনি যখন জীবনে অনেক কিছু করার থাকে? আপনাকে বর্তমানে কোন বিষয়টি অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করছে? আমাদের বৃহৎ লক্ষ্যের দিকেই অনেক সময় আমরা মনোযোগ দিই না এবং এড়িয়ে চলে যাই। ক্ষুদ্র বিষয়াদি নিয়েই নিজেদের প্রচণ্ড ব্যস্ত করে ফেলি। তখন মনে হয় যে আমরা একটি থিয়েটারে আছি এবং কেবলমাত্র একটি বিষয়ের দিকেই নজর দিচ্ছি।
লোকেদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় আমি সর্বদা খেয়াল করি যে তাঁরা ক্ষুদ্র বিষয়ের দিকেই এতো মন দিয়ে থাকেন যে আসল বিষয়ই তাদের মাথায় ঢোকে না। আমি তাদের তখন জিজ্ঞেস করি, ‘এ বিষয় নিয়ে যে আপনি এতো ভাবছেন, এটি কি কাল, আগামী সপ্তাহ কিংবা আগামী বছর আপনার জীবনে কোন মূল্য রাখবে? তাহলে অযথা এসব নিয়ে ভেবে বর্তমানের সুন্দর সময়গুলো কেন নষ্ট করছেন?
বারান্দায় চলে যান
মনে করুন, আপনি একটি থিয়েটারে স্টেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কলাকুশলী এবং অর্কেস্ট্রার মানুষদের সকল আওয়াজ আপনি শুনতে পাচ্ছেন। এটি যথেষ্ট বিরক্তিকর এবং মনোযোগ ক্ষুণ্ণ মনে হলো আপনার কাছে। হওয়াটাই স্বাভাবিক। এখন, উপরের তলায় কোন বারান্দায় চলে যান এবং প্রকৃতি দেখা শুরু করুন। এবার আপনি চারপাশের বৃহৎ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন। একটু আগে যেমন আপনি খুব বিরক্ত হচ্ছিলেন, এখন কিন্তু আপনাকে কোন ধরনের বিরক্তি স্পর্শ করছে না। নীচে কিন্তু একই ধরনের শো চলছে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি একটু বদলানোর জন্যে দেখুন আপনার অভিজ্ঞতাটাই বদলে গিয়েছে।
এই কাজটিই আপনার জীবনের ছোটখাটো ব্যাপারগুলো নিয়ে করা উচিৎ। নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘বড় যেকোন বিষয়ে, ক্ষুদ্র ব্যাপার নিয়ে মন খারাপ কেন করবো আমি? এতে করে সময় ও মনোযোগ কেন নষ্ট করবো?’
দিন শেষে এর কী সত্যিই কোন ভূমিকা আছে?
আপনি যদি এখনো নিজেকে নিয়ে খুব বীতশ্রদ্ধ থাকেন এবং আশেপাশে সবকিছুই আপনার খুব অসহ্য মনে হয় তাহলে এটি ভাবুন যে, আমাদের জীবন খুব সংক্ষিপ্ত। মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আপনি নিশ্চয়ই আপনার বন্ধু কোন চাকরিতে প্রমোশন পেয়েছিল আর আপনি পাননি, সেটা নিয়ে ভাববেন না! নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ধকল, দুশ্চিন্তা এবং নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে রাখুন-
– যে ব্যাপারগুলো আপনাকে বিরক্ত করে সেগুলো আস্তে করে এড়িয়ে চলুন।
– অন্য মানুষকে তর্কে জিততে দিন।
– চোখ বন্ধ করে এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনুন এবং শান্ত হোন।
– সব ব্যাপারকে একদম সিরিয়াসলি নেওয়া বন্ধ করুন।
সুত্র: প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button