
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেমন ‘স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য’ ছিল তেমনিভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও ভূমিকা পালনের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আজ ৩০ জানুয়ারি, বুধবার সকালে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শীর্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশ দেন।
স্বার্থকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ দেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাঠামোগত দিক থেকে খুব একটা পার্থক্য নেই। স্থানীয়ভাবে হওয়ায় এই নির্বাচনগুলো আরো বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। আমি আবারো আশা করবো, যেভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় আপনাদের ভূমিকা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, দৃঢ় ছিল। এবার আপনাদের সেরকম স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ হতে হবে।’
‘বাংলাদেশে উন্নয়নের যে অগ্রগতি, যে ধারা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষায় যে অগ্রযাত্রা তা উপজেলা পরিষদ সৃষ্টি এটা কার্যকর করার পর থেকেই এগুলো সম্ভব হয়েছে,’ বলেন সিইসি।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে নুরুল হুদা বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। ইভিএম আমরা ধারণ করি। ইভিএমের উপরে আমাদের আস্থা, বিশ্বাস নানা কারণে এ কথা আপনাদের সামনে আমরা বার বার বলেছি। যত্নসহকারে এর প্রশিক্ষণ নেবেন এবং প্রশিক্ষণ দেবেন। নতুন একটা পদ্ধতি বলে এর কোথাও কোথাও কোনো ভুলভ্রান্তি হয় মানুষের মধ্যে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হয়। সেটা আপনাদের ওপর নির্ভর করে।’
সিইসি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি নির্বাচনী এলাকায় আমরা ইভিএম ব্যবহার করেছি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য সেটা কোথাও কোথাও ভুলত্রুটি ছিল, অসুবিধা ছিল। সে অসুবিধাগুলো নতুন একটা পদ্ধতি প্রয়োগের সময় এরকম হতে পারে। একেবারে হতে পারে না এটা আমি বলবো না। তবুও আপনাদের সাবধানতা, সতর্কতা যদি বেশি থাকে। তাহলে সেরকম ভুল হওয়া উচিত ছিল না।’
‘আমরা বলেছিলাম এটা এমন একটা সিস্টেম যে আধাঘণ্টা, একঘণ্টার মধ্যে জনগণের কাছে তুলে দেবো। আমরা সেটি পারিনি। কেনো পারিনি সে কারণগুলো নির্ধারণ করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কি ভুল ছিল সেগুলো শনাক্ত করতে হবে। সেগুলো সংশোধন করতে হবে,’ বলেন সিইসি।



