
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের মাত্রা ও এর উত্স চিহ্নিতপূর্ব দূষণ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদফতর সুইডেনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর এয়ার রিসার্চ (এনআইএলইউ)’র সহায়তায় একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
রবিবার সংসদে সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গবেষণার ফলাফলে লক্ষ্য করা যায় যে শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা শহরের ধুলি দূষণের (পিএম১০) মাত্রা অত্যধিক (সর্বোচ্চ ৪৯৯ ইউজিএম/এম৩) যা পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ এর মানমাত্রা (সর্বোচ্চ ১৫০ ইউজিএম/এম৩) অপেক্ষা বেশি।
তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল মোতাবেক ঢাকা শহরের ধুলি দূষণের অন্যতম উত্স হলো ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিদ্যমান ইটভাটা (শতকরা ৫৮ ভাগ), খোলা অবস্থায় নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা ও খোলা অবস্থায় নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা শতকরা ১৮ ভাগ) ও যানবাহন (শতকরা ১০ ভাগ) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদফতর দেশে বিদ্যমান ইটভাটাসমূহকে আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর এবং সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা শহরের ১ কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যমান ইটভাটাসমূহ স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ইট ভাটা সৃষ্ট বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ জারীকরণ পূর্বক দেশে বিদ্যমান সনাতন ইটভাটাসমূহকে আধুনিক পদ্ধতিতে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত শতকরা ৬৪ দশমিক ৭৮ ভাগ ইটভাটা পরিবেশ বান্ধব আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এছাড়া পরিবেশ অধিদফতর হতে বহুতল ভবনসহ অন্যান্য নির্মাণ প্রকল্পের ছাড়পত্র প্রদানের সময় নির্মাণ সামগ্রী খোলা অবস্থায় ফেলে না রাখা এবং নির্মাণ কাজ খোলা অবস্থায় পরিচালনা না করার শর্ত প্রদান করা হচ্ছে।




