sliderস্থানিয়

শিবগঞ্জে তিন বছর যাবত শিকলবন্দী শিক্ষার্থী রিফাত

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: সপ্তম শ্রেণীতে রোল নং এক থাকলেও অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার সময় রোল নং দুই হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে তিন বছর যাবত শিকল বন্দী জীবনযাপন করেছে তরুন শিক্ষার্থী সাকিবুল ইসলাম(২০), ঘটনাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের কয়লার দিয়াড় গ্রামের ।

সাকিবুল ইসলাম রিফাতের পিতা অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক রফিকুল ইসলাম ও তার মাতা মোসা: নাজিরা বেগম জানান ২০১৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলার কয়লার দিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সপ্তম শ্রেণীতে রোল নং এক থাকা অবস্থায় বাৎসরিক পরীক্ষা দিয়ে অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সময় সাকিবুল ইসলাম রিফাতের রোল নং দুই হয়ে যায়। তখন থেকেই রিফাত মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। এরই মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লেখাপড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রিফাত এবং তার মানসিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের ওপর উপর্যপুরি হামলা শুরু করে।

এমতাবস্থায় সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় তিন বছর ধরে তাকে শিকলবন্দী করে রাখতে বাধ্য হয় পরিবার। সাকিবুল ইসলাম রিফাতের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে একাধিক মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েও তাকে সুস্থ করতে ব্যর্থ হয়েছি। আর্থিক অনটনের কারণে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছি না। তার মা মোসা: নাজিরা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতার কামনা করছি। আমার বিশ্বাস উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে পারলে আমার সন্তান রিফাত সুস্থ হয়ে আমার বুক ফিরে আসবে ইনশাল্লাহ। আমি মা হয়ে ছেলের জন্য সব সময় আল্লাহ কাছে দোয়া করি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময়ের মেধাবী শিক্ষার্থী রিফাত পড়াশোনায় খুব ভাল থাকলেও বর্তমানে তার আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মাঝে মধ্যেই বাবা-মা ও আশপাশের মানুষকে মারধর করে। তারা রিফাতের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কয়লার দিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবিরুল ইসলাম এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, রিফাত বিদ্যালয়ের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার বর্তমানে সে বেপরোয়া হয়ে গেছে। এমন ঘটনা যেন আর কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে রিফাতের উন্নত চিকিৎসা হলে সে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন ফিরে পেতে পারে।

শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, উন্নত ও নিয়মিত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে রিফাত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে বলে আশা করা যায় । তিনি আরো বলেন রিফাত বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা পায় এবং ভবিষ্যতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button