Uncategorized

শাহজাদপুর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনাসহ সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে এ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
দ্বিতীয় দফা বন্যায় উপজেলার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডেও রূপপুর নতুনপাড়ার চর ও নিচু এলাকার প্রায় ২ শতাধিক হতদরিদ্র তাঁত শ্রমিকের বাড়িঘর ও তাঁত কারখানা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এ সব বাড়িঘরের শ্রমজীবি মানুষের হাতে কোনো কাজ নেই। এর ওপর বন্যার ছোবলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা তাদের শিশু সন্তান নিয়ে ঘরে মাচা করে অথবা চৌকি উঁচু করে বন্যার পানির মধ্যে বাস করছে।
এ ছাড়া চরের অনেক বাড়িঘরের মানুষ তাদের শিশু সন্তান নিয়ে ঘরের চালে খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। এদের অনেকের ঘরেই খাবার নেই। অনেকে আবার এক বেলা রেঁধে ২ বেলা খাচ্ছে। অনেকের তাঁত ঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় কাপড় বোনা বন্ধ রয়েছে। ফলে তারা অর্থকষ্টে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এ সব বানভাসি মানুষের অভিযোগ তারা উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা কার্যালয় থেকে মাত্র কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করেন। অথচ গত ১৫ দিন ধরে তারা বন্যার পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত তাদের কোনো ত্রাণ সামগ্রী তো দূরের কথা কেউ তাদের খোঁজও নেয়নি। ফলে তারা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বন্যা দুর্গতদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। অচিরেই তাদের ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
এ ছাড়া উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পাট, তিল, কাউন ও সবজি ফসল। ফলে কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বন্যার কারণে কাঁচা ঘাসের মাঠ ডুবে যাওয়ায় গোবাদি-পশু নিয়ে গো-খামার মালিকরা বিপাকে পড়েছে। এদিকে শাহজাদপুর উপজেলার বন্যা দুর্গত গালা, সোনাতনী, কৈজুরি, জালালপুর ও খুকনি ইউনিয়নের মানুষ ত্রাণের অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। নতুন কোনো লোক দেখলে বা শ্যালো নৌকার শব্দ পেলেই ত্রাণের আশায় ঘর থেকে ছুটে আসেন। তাদের ঘিরে ধরে ত্রাণের জন্য আকুতি জানায়।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার পিআইও আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলার বন্যাদুর্গত ৭৯০ পরিবারের মাঝে শুকন খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ১০ কেজি চাল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি ডাল, নুডুলস ৩ প্যাকেট ও ১ লিটার তেল। দেশ রূপান্তর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button