রাজনীতি

শাসক দলের বীভৎস যাঁতাকলে দেশের মানুষ পিষ্ট-রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শাসক দলের বীভৎস যাঁতাকলে দেশের মানুষ আজ পিষ্ট। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে একটি নিপীড়নমূলক দানবে পরিণত করে বর্তমান ধ্বংসবাজ সরকার গত কয়েকদিনে পাইকারী হারে গ্রেফতার, আর অবিরাম ক্রসফায়ারের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। বিদ্যমান আওয়ামী শাসন অন্তর্গত ও বহির্গত উভয় দিক থেকে নির্মম ও নৃশংস। তাই এই শাসন এখন একদলীয় আগ্রাসী দুঃশাসনের অতিকায় দৈত্যে পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। রিজভী বলেন, দেশব্যাপী হত্যা, গ্রেফতার, পুুলিশী নির্যাতনের এক বীভৎস যাঁতাকলে দেশের মানুষকে পিষ্ট করছে শাসক দল। পুলিশের প্রশ্রয়ে বিরোধী দলের সভা, ইফতার পার্টির ন্যায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পন্ড করে দিচ্ছে বেপরোয়াভাবে। মানুষের কাছ থেকে সহায় সম্পত্তি কেড়ে নিচ্ছে।
দেশের লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করার পর সরকারী দলের আধিপত্য ক্ষুধা আরও বেশি উগ্র রূপ ধারণ করেছে। এর কারণ জনগণের প্রতি এই ভোটারবিহীন সরকারের দায়বদ্ধতা নেই। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঋজু, অকপট ও নির্ভীক সেই সমস্ত ব্যক্তি ও রাজনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য সরকার তার সকল চক্রান্ত এঁটে যাচ্ছে। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, কিন্তু দেয়া নেয়ার ব্যাপারে একচোখা নীতি বজায় রাখলে বন্ধুত্বের নীতি বজায় থাকে না।
আমরা চাই সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব। আওয়ামী লীগের মতো একতরফা আত্মঘাতী বন্ধুত্ব বজায় রাখলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষিত হবে না। বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, রাষ্ট্র নিয়ে অনাচারে দুষ্টচক্র সৃষ্টি করে সরকার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। নির্বিচারে গণগ্রেফতার করে ধারণ ক্ষমতার চাইতে তিনগুণ বেশি বন্দী কারাগারে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে, সেখানে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।
দেশবিরোধী সকল চক্রান্ত ঢাকা দেয়ার জন্যই দেশব্যাপী চালানো হচ্ছে ন্যায়নীতি বিবর্জিত গণগ্রেফতার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যা। হুমকি, বন্দুক আর হত্যার বাতাবরণ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক আবদুল মান্নান, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক শফিক রেহমান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ এবং হবিগঞ্জের মেয়র জি কে গউসের মুক্তি দাবি করা হয়। তাছাড়াও গণগ্রেফতারের নামে দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন রিজভী।
বিএনপি নেতা জয়নুল আবদীন ফারুকের উপস্থিতিতে ইফতার মাহফিলে ছাত্রলীগের হামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ। সুত্র: নয়াদিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button