sliderমতামতশিরোনাম

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস অমর হোক

শামসির শরিফ: শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা : তাঁদের চিন্তা ও কর্ম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় : তাঁদের চিন্তা কি ছিল? কেনো তাঁদের হত্যা করা হলো: কারা তাঁদের হত্যা করলো:

বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার লক্ষ্যে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ। পঁচিশে মার্চ কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে নির্মম গণহত্যা শুরু করে। গণহত্যার শুরুতেই ঢাকার নিরস্ত্র জনসাধারণকে যেমন নির্বিচারে হত্যা করেছে তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদেরও বর্বরভাবে হত্যা করে। এই হত্যার মাধ্যমেই শুরু হয় বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা। বুদ্ধিজীবী কারা? রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক,আইনজীবী, ইন্জিনিয়ারসহ সকল বুদ্ধিবৃত্তিক পেশাজীবি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন জেনারেল রাও ফরমান আলীর নেতৃত্বে সুপরিকল্পিতভাবে ধরে ধরে বাংলাদেশের সেরা চিন্তকদের তারা হত্যা করে। রাও ফরমান আলীর ডায়েরিতে তাঁদের অনেকের নাম লেখা ছিল। এই হত্যাকান্ডে রাও ফরমান আলীকে সহযোগিতা করে আলবদর, আলশামস, বিহারী ও অন্যান্য এদেশীয় সহযোগীরা। তারা সামরিক বাহিনীর গাড়ি নিয়ে ঘুরে ঘুরে বাসায় বাসায় গিয়ে বুদ্ধিজীবীদের ডেকে এনে হত্যা করে। হত্যা করেছে হাত পা চোখ বেঁধে। তাঁদের শরীর নির্যাতন করে এমনভাবে ছিন্ন বিছিন্ন করে ফেলেছিল ঘাতকরা তাঁদের সনাক্ত করা কঠিন ছিল। রায়ের বাজার বধ্যভূমি তার প্রমাণ। তাঁদের অনেককে পাওয়াও যায়নি। জহির রায়হান বলেছিলেন, এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য। সেই তিনি জহির রায়হান বিহারি ক্যাম্পে নিখোঁজ হন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জানুয়ারির শেষে।

তাই বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ২৫ শে মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ৩১ শে জানুয়ারি পর্যন্ত নিহত বুদ্ধিজীবীদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তিনিই ১৪ ই ডিসেম্বরকে বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
এক অসমাপ্ত তালিকায় দেখা যায় নিহত বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা হলো: ১১১১ জন। এঁদের মধ্যে নয়শতের অধিক হলেন শিক্ষক। দেশের শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী,সাংবাদিক, ইন্জিনিয়ার এবং রাজনীতিবিদসহ অন্যদের মেরে ফেললে সে জাতির আর কি থাকে?

কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ সৌভাগ্যবান। তাঁদের চিন্তা ও কর্মকে এদেশের জনগন মনে রেখেছেন এবং তাঁদের আদর্শে দেশকে পরিচালিত করার জন্য এখনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ করে চলেছে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
*লেখক বাম চিন্তক ও লেখক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button