বিবিধশিরোনাম

লেবুর জন্ম হয়েছিল হিমালয় পাদদেশে

সাইট্রাস বর্গের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৫০ প্রজাতির লেবু রয়েছে। কমলা লেবু, বাতাবি লেবু, পাতি লেবু, টক লেবু, রক্ত লেবু, শরবতী লেবু, জাম্বুরা, সাইট্রন লেবু, মান্দারিন লেবু, পার্সিয়ান লেবুর সবাই এই সাইট্রাস বর্গের অন্তর্গত। আমেরিকা মহাদেশ থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইউরোপেও দেখা মেলে লেবুর। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া এই লেবুর উৎপত্তি উৎস নিয়ে গবেষকরা এতদিন অস্ট্রেলিয়া এবং পাপুয়া নিউগিনির কথা বলে আসলেও সম্প্রতি লেবুর ডিএনএ ইতিহাস ইঙ্গিত দিচ্ছে, হিমালয়ের পাদদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলেই নাকি উৎপত্তি হয়েছিল লেবুর। নেচার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ৮০ লাখ বছর আগে হিমালয়ের পার্শ্ববর্তী আসামের পূর্বাঞ্চল, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল এবং চীনের ইউনান প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে লেবুর কিছু প্রজাতি জন্মাত। ৬০/৭০ লাখ বছর আগে হিমালয় অঞ্চলে দুর্বল মৌসুমি বায়ু এবং শুষ্ক আবহাওয়া থাকায় হিমালয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে লেবু গাছ জন্মাতে পারত।
এই অঞ্চলে জন্মানো সেই লেবুর বেশিরভাগই ছিল টক স্বাদের। মূলত এশিয়া অঞ্চল থেকেই টক লেবু ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে। অস্ট্রেলিয়াতে লেবুর উৎপত্তি হয় ৪০ লাখ বছর পূর্বে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কয়েক লাখ বছরের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে লেবু আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর কয়েক হাজার বছর ধরে লেবু গাছের প্রজননের ফলাফল বর্তমানের হরেক প্রজাতির সমন্বয় সাইট্রাস ফল।
বিশ্বজুড়ে চাষকৃত ফলের মধ্যে সাইট্রাস ফল অন্যতম। কিন্তু এর ইতিহাস এখনো পুরোপুরি উদঘাটন করতে পারেনি মানুষ। সাইট্রাস ফলের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে মার্কিন এবং স্পেনের একদল গবেষক পৃথিবীর ৫০টিরও বেশি প্রজাতির লেবুর জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ওপর গবেষণা করেন। বিভিন্ন প্রজাতির লেবুর জেনেটিক ম্যাপ থেকে বিজ্ঞানীরা লেবু গাছের গুণাগুণ, সহ্য ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পান। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি জয়েন্ট জিনোম ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক গুয়োহোঙ আলবার্ট বলেন, ভবিষ্যতে নতুন প্রজাতির সাইট্রাস ফলের গাছ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এই জেনেটিক ম্যাপ। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা হয়ত এমন প্রজাতির লেবু গাছ উদ্ভাবনে সক্ষম হবেন যেটি একই সঙ্গে স্বাঙ্গ, ঔষধি গুণাগুণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন হবে।
নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে জদরেল ল্যাবরেটরির ড. ইলিয়া লেইচ বলেন, ভবিষ্যতে আরো উন্নত স্বাদের সাইট্রাস ফল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে এই গবেষণা। এই গবেষণাতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে লেবু। এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে জন্মানো বিভিন্ন প্রজাতির লেবুর জাতের সংকরায়ন এবং জেনেটিক বৈশিষ্ট্য মিলে মিশে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন জাত। লেবুর ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে খুব বেশি জীবাশ্ম রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাওয়া সাইট্রাস জীবাশ্ম পাতার আনুমানিক বয়স ৮০ লাখ বছর যা কিনা সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফলকে সমর্থন করে।-বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button