
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে ভারতে বেকারত্বের হার ছুঁয়ে ফেলেছে ২৬.২%। কর্মসংস্থান ফেব্রুয়ারির ৪০% থেকে এক ধাক্কায় নেমেছে ২৬ শতাংশে। উপদেষ্টা সংস্থা সিএমআইই’র দাবি, এপ্রিলের এ কয়দিনে কর্মসংস্থানের হার ১৪ শতাংশ বিন্দু কমা অভূতপূর্ব ঘটনা। যার অর্থ, লকডাউনে দেশের ১৪ কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, করোনার সঙ্গে লড়াই করতে লকডাউন ছাড়া পথ নেই। কিন্তু সকলেরই চিন্তা, লকডাউনের চার সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই কাজের বাজারের ছবিটা যে রকম ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে, এই পর্ব শেষ হওয়ার পরে না-জানি তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে!
করোনা-সঙ্কট যোঝার এই কঠিন সময়ে কাউকে ছাঁটাই না-করার আর্জি জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেছেন, বেতন ছাঁটাই না-করার কথাও। এ বিষয়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের আওতায় নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র।
তবে প্রায় সবকয়টি সর্ব ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়নের দাবি, লকডাউন শুরুর পর থেকেই কর্মী ছাঁটাইয়ের বিপুল সংখ্যক অভিযোগ আসছে।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রীর পরে এবার বিমান পরিবহনমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরীকে চিঠি দিয়েছে তারা।
চিঠিতে চেন্নাই বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ সামলানো এক সংস্থায় কর্মীদের ঠিকঠাক বেতন না-পাওয়া নিয়ে সরব হয়েছে এআইটিইউসি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ কউরের অভিযোগ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পুরোদমে কর্মী ছাঁটছে বহু সংস্থা।
সিটুর প্রশ্ন, সরকার নির্দেশিকা জারির পরে কেন তা কার্যকর করছে না? ছাঁটাইয়ের কথা মেনেছে সঙ্ঘের কর্মী সংগঠন বিএমএস-ও।
যদিও শিল্প, বিশেষত ছোট-মাঝারি শিল্পের প্রশ্ন, সরকার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে না-হাঁটার কথা বলেছে ঠিকই। কিন্তু এই প্রবল সঙ্কটে ছোট শিল্প কোন রসদে বেঁচে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লকডাউনে মাস গড়িয়ে যাওয়ার পরেও ত্রাণ প্রকল্প এখনও অধরা। সূত্র: আনন্দবাজার।




