জাতীয়শিরোনাম

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সকল রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই সংকট নিয়ে রাজনীতি না করে জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত এই ঐক্য গড়ার ওপর জোর দেন তারা। বিকল্পধারা সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের আমন্ত্রণে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সমাবেশে তারা এই আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ‘জাতীয় সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্য’ শীর্ষক এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বি. চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা আমাদের জাতীয় জীবনে মস্তবড় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটিকে হেলা করার ও ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। এই সংকট মোকাবিলায় দেশের ১৮ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে। সেই কমিটির উদ্যোগে দেশের পাঁচটি বড় শহরে সমাবেশ এবং পরে কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে ১০ লাখ লোকের সমন্বয়ে একটি মহাসমাবেশ আয়োজন করতে হবে। তার এই প্রস্তাব সমাবেশে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
বি. চৌধুরী বলেন- মিয়ানমারের পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছে সেখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশাল বাণিজ্য জড়িত। চীন, রাশিয়া, ইসরায়েল ও ভারত- এই চারটি দেশ মিয়ানমারে বিশাল অঙ্কের অর্থের অস্ত্র বিক্রি করে। সরকারের উচিত এই চারটি দেশে লোক পাঠিয়ে তাদেরকে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বোঝানো।
ড. কামাল হোসেন বলেন, মিয়ানমার যা করেছে আন্তর্জাতিক আইনের চোখে তা মহাঅন্যায়। মানবাধিকার প্রশ্নে গুরুতর অপরাধ। এজন্যই আন্তর্জাতিক মহলকে আমরা পাশে পাচ্ছি। ব্রিটিশ ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে তারা আর প্রশিক্ষণ দেবে না। জাতিসংঘও স্পষ্ট বক্তব্য দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য কৌশল প্রয়োজন। কারণ এর আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক রয়েছে। যারা মিয়ানমারের পক্ষে কথা বলছে সরকারের উচিত দ্রুত সেখানে বিশেষ দূত পাঠানো। গণচীনে লোক পাঠানো হোক। গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি-বোঝাতে পারলে চীন মিয়ানমারকে সমর্থন করবে না। এই সংকট কঠিন, সমাধান অসম্ভব-আমরা এসব শুনতে চাই না। বিশেষ দূত পাঠাতে কেন এত দেরি হচ্ছে?
ড. কামালের আগে দেওয়া বক্তব্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘জননেত্রী যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর আপনি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। এই সুযোগ আর জীবনে পাবেন না। ফেল করলে টিকিট পাবেন না, ট্রেন আপনাকে ফেলেই চলে যাবে।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি পরায়ণ রাজনীতির বিপরীতে নীতির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। অং সান সু চি জাতিসংঘে যাননি, এটা তার নৈতিক পরাজয়। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আজ সবার দৃষ্টি আমাদের দিকে আছে, কিন্তু কিছুদিন পর নাও থাকতে পারে। এই সংকট সহজে সমাধান হবে না। তাই অতিদ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের সভাপতি জাফর উল্যাহ খান, ফরোয়ার্ড পার্টির চেয়ারম্যান আ.ব.ম মোস্তফা আমীন প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button