
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে নুতন করে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেয়ার অনুমতি চেয়েছে জাতিসঙ্ঘের অঙ্গ সংস্থাগুলো। কিন্তু বাংলাদেশমুখী শরণার্থীদের জোয়ার আরো বাড়তে পারে এ আশঙ্কায় সরকার কোনো সাড়া দিচ্ছে না।
জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) ও ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রোডক্রস (আইসিআরসি) রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেয়ার অনুমতি চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে।
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে অন্তত দশ হাজার রোহিঙ্গা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
ইউএনএইচসিআর কার্যালয়ের মুখপাত্র ভিভিয়ান ট্যান বলেছেন, সেখানকার পরিস্থিতি খুবই অনিশ্চিত। পালিয়ে আসা শরণার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা ১০ হাজারের বেশিও হতে পারে। বিভিন্ন মানবিক ত্রাণ সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ অনুমান করেছেন।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে দমন অভিযান চালাচ্ছে, তাতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযানকে ইউএনএইচসিআরের একজন কর্মকর্তা ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
গত মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘের মানবিক ত্রাণ বিষয়ক দফতর বলেছে, রোহিঙ্গাদের সাথে মিয়ানমার যা করছে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
মিয়ানমার সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছে, তারা কেবল রোহিঙ্গা জঙ্গীদের দমনে অভিযান চালাচ্ছে।
জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান রোহিঙ্গা মুসলমানদের পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করতে রাখাইন প্রদেশে গেছেন। তবে রাখাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায় তার এই সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে। কফি আনানকে প্রকৃতপক্ষে রাখাইনের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো দেখনো হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে।
গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির দল সরকার গঠনের পর রাখাইন পরিস্থিতি সুরাহার জন্য কফি আনানের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কমিশন সুপারিশসহ তাদের প্রতিবেদন দেবে।




