খেলা

রোনালদোর হ্যাট্রিক : ফাইনালের পথে রিয়াল

স্পোর্টস ডেস্ক : ‘অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেনি তার প্রধান কারণ রিয়াল মাদ্রিদ’ অনেক মাস আগে কথাটা বলেছিলেন দিয়েগো সিমিওনে। অ্যাটলেটিকোর আর্জেন্টাইন কোচের কথাটা যে উপযুক্ত তা আর একবার প্রমাণিত হতে যাচ্ছে। আগের মৌসুমের ফাইনালে এই রিয়ালের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে অ্যাটলেটিকোকে। তার আগেও দুইবার রিয়ালের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এবারও একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি প্রায় নিশ্চিত। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আজ অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
ফিরতি লেগে রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের বিপক্ষে চার গোলের ব্যবধানে জিতে ফাইনালে যাবে অ্যাটলেটিকো, এমন স্বপ্ন হয়তো অ্যাটলেটিকোর কোন সমর্থকও দেখছে না। অপর দিকে রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকরা রোনালদো বন্ধনায় মত্ত। অ্যাটলেটিকোর জালে রিয়ালের যে তিন গোল, তিনটিই যে রোনালদোর।
ম্যাচ শেষে নিজের হ্যাটট্রিকের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বললেন, ‘আমি আবারও বলছি আপনারা কেউ আমাকে নিয়ে উপহাস করবেন না।’ বড় আক্ষেপেই রোনালদোর মুখ থেকে বেড় হয়েছে এই আকুতি। যখন গোল একটু কম পান, রিয়াল সমর্থকরা মাঠে তাকে নিয়ে উপহাস করেন নিয়মিত। কয়েক দিন আগে বার্সেলোনার বিপক্ষে ঘরের মাঠে লা লিগার ম্যাচেও ঘটেছে এমন ঘটনা।
কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে গত রাতে পর্তুগাল যুবরাজ বুঝিয়ে দিলেন তাকে নিয়ে উপহাস করার সময় আসেনি এখনো। অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচ দুর্দান্ত খেলে বুঝিয়ে দিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজা তিনিই (চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক রোনালদো)। ঘরের মাঠে অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচই অবশ্য দুর্দান্ত খেলেছে রিয়াল।
কিন্তু নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে গোল পাচ্ছিলেন না রিয়ালের অন্য ফুটবলররা। প্রতিপক্ষ গোলবার আর গোলরক্ষক মিলে একাধিকবার হতাশ করেছে রিয়াল ফুটবলারদের। এমন একটা ম্যাচে একাই পার্থক্য গড়ে দিলেন রোনালদো। ম্যাচের ১০ মিনিটে দারুণ এক হেডে রিয়ালকে প্রথম গোল এনে দেন।
৭৩ মিনিটে মার্সেলো-বেনজেম সমন্বয় আক্রমণে রোনালদোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ২-০ তে এগিয়ে যায় রিয়াল। রিয়াল মাদ্রিদের ঘরে মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তখন থেকেই উত্তাল সাগরের গর্জন। ৮৬ মিনিটে গিয়ে আরও বাড়িয়ে দিলেন রোনালদো। দুর্দান্ত এক গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক তুলে নেওয়ার পাশাপাশি রিয়ালকে ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে জিদানর দল।
১০ মে অ্যাটলেটিকো মাঠে ফিরতি লেগ। চ্যাস্পিয়নস লিগের ফাইনালে যেতে হলে চার গোলে জিততে হবে গ্রিজমান-তোরেস-গডিনদের। ইতিহাস অবশ্য একটু আশার আলো দেখাচ্ছে অ্যাটলেটিকোকে। ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে রিয়ালকে চার গোলের ব্যবধানে হারিয়েছিল আটলেটিকো। পূনরাবৃত্তি হবে তো এবার!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button