ভারতের সদ্য পাশ হওয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চতুর্থ দিনে গড়ায় গত মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর)। আন্দোলন চলাকালে যে সব অবর্জনা প্রতিবাদকারীরা ফেলেছিলো, এই দিন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের রাস্তা থেকে সেগুলো পরিষ্কার করতে দেখা যায়।
ভারতের সংবাদ সংস্থা আইএএনএস’র বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করে এনডিটিভি।
জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব বলেন, ‘এটা আমাদের ক্যাম্পাস এবং আমরা এটা পরিষ্কার রাখতে চাই। তাই আন্দোলনে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদকারী ও পথচারীদের ফেলে দেয়া ময়লা-অবর্জনাগুলো পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যেখানে বিক্ষোভ করেছিলাম সেখান থেকে আবর্জনাগুলো সংগ্রহ করবো। এরপর সেগুলো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রাখা ডাস্টবিনে রেখে দিব।’
আরেক শিক্ষার্থী ফারাজ খান বলেন, ‘যেহুত আমাদের নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তাই আইই’র সামনে (গেট নম্বর ৭) বিক্ষোভের স্থানের পরিচ্ছন্নতা আমারা নিশ্চিত করবো। যেমন- পানির বোতল, বিস্কুটের প্যাকেট, কাগজের টুকরা, ফেলে দেয়া পোস্টার, চায়ের কাপ, আবর্জনা ভর্তি ব্যাগ সংগ্রহ করে ডাস্টবিনে ফেলে দেব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই কাজে স্থানীয়রাও এগিয়ে আসেন। তারাও ক্যাম্পাস এলাকা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করেন।
প্রতিবাদে অংশ নেয়া আসদাক বলেন, ‘বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষুধার্ত না থাকে স্থানীয়রা তা নিশ্চিত করেছিলো। এজন্য তারা সব সময় শিক্ষার্থীদের জন্য পানি, বিস্কুট, বিরিয়ানি, ফল এবং জুস নিয়ে আসতেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই সব জিনিসের প্যাকেটগুলোই পরে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। এখানকার সবাই এগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংগ্রহ করতে চায়। এছাড়াও আমরা এটাও নিশ্চিত করেছি যে, প্রতিবাদ চলাকালে যেন যানবাহন চলাচলে কোন ধরনের অসুবিধা না হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।’
গত ১৪ ডিসেম্বর, শনিবার জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে। কিন্তু পরের দিন রবিবার পাঁচটি বাস জ্বালিয়ে দেয়া হলে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। যদিওবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের সহিংসতায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। পরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, পুলিশেই গাড়িতে আগুন দিচ্ছে।
বিক্ষোভের স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের আবর্জনা পরিষ্কারের এধরনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মুগ্ধ করেছে। তারা এই কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রসংশা করেছেন।
জাভেদ আলম নামের একজন টুইটারে লিখেছেন, ‘এই হলো জামিয়া, জামিয়া আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে ধরণা তৈরি করে দিয়েছে। অহিংসার এই পথ আমরা অনুসরণ করবো, এই পথ অনুসরণ করে আমরা আমাদের চারপাশের যততত্র অবর্জনা ফেলবো না, আর কেউ যদি ফেলে আমরা তাদেরগুলো পরিষ্কার করবো। জামিয়ার শিক্ষার্থীরা এবং তাদের মধ্যে একজন আমার পিএইচডি’র জ্যেষ্ঠ সহকর্মী রাস্তা ও ফুটপাথ পরিষ্কার করছেন।’
আসমা রিফাত নামে আরেকজন টুইটে লিখেছেন, ‘নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পর জামিয়া বিশ্ববিদ্যালেয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা পরিষ্কার করছে। এটা আমার জামিয়া। জামিয়া হলো একটি আবেগ এবং বাবু ভাইকে (তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পিএচডিধারী একজন লেখক ও গবেষণা সহযোগী) জনগণ পছন্দ করে। এটা আমাদের বাসার মতো।’
অন্য এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের পর ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তা পরিষ্কার করছে! এটা তাদের চরিত্রের সাক্ষ্য বহন করে। এটাই একটি কারণ, কেনো প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জামিয়া ও আলীগত মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংহতি জানিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এটা একটি!’




