sliderরাজনীতিশিরোনাম

রাজনৈতিক বিভেদ ফ্যাসীবাদ ফেরার সুযোগ তৈরি করবে-মজিবুর রহমান মঞ্জু

পতাকা ডেস্ক : গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দুঃসহ জুলাই স্মৃতি সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে এবি পার্টির কেন্দ্রীয়ে। জুলাই যোদ্ধা আসিফ বলেন, আমার পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে পুলিশ গুলি করেছে। মনে হচ্ছিল মৃত্যু উপত্যকায় পরে আছি। এবি যুবপার্টির আহবায়ক টুটুল ভাই আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আরেক জুলাই যোদ্ধা হাবিবুর রহমান বলেন, ১৮ জুলাই আমি ছিলাম ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। পুলিশ ছিলো দুই পাশে, আমরা ছিলাম ৬জন কিন্তু তারা ছিলো ৮৬ জন। ঐদিন জীবিত ফিরবো কখনো কল্পনা করিনি। এই রকমই নানা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ননা দিচ্ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাহসী যোদ্ধারা।
আজ আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) গণঅভ্যুত্থানে সাহসী সন্তানদের সম্মান প্রদর্শনে জুলাই’২৪ আহত বীরদের সংবর্ধনার আয়োজন করে। সকাল ১১ টায়  দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মিনারের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আতিকুর রহমান, রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, শাখাওয়াত হোসেন, আকিব হাসান নিলয়, আশরাফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, হেদায়েত উল্লাহ, রোমান মিয়া, সিফায়েত হোসাইন আসিফ, হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন আহমেদ, মোহাম্মদ আমিন, নাবিল, মুস্তাফিজ বিল্লাহ হাবিবী, হাবিবুর রহমান, ফয়েজ আকাশ, নুরুল হুদা, ইকবাল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।  
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন,
বিভেদের কারনে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিদের আত্মঘাতী সংঘাতে জড়ানোর সুযোগ নাই । মত, পথ আলাদা থাকবে, সমালোচনা হবে সেটিকে মেনে নিয়েই সামনে এগোতে হবে।  আমাদের মনে রাখতে হবে, ফ্যাসিবাদ কখনো ফিরে আসলে সকলকে গ্রাস করবে, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিদের কাউকে ছাড়বে না। তাই শত মনমালিন্য থাকা স্বত্বেও আমাদের ঐক্য অটুট রাখতে হবে।
তিনি আরো  বলেন,  যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হতো তাহলে আমাদেরকে দিনের পর দিন কারাগারে কাটাতে হতো, নেমে আসতো অবর্ণনীয় নির্যাতন। পক্ষান্তরে যে সব পুলিশ কর্মকর্তারা  গুলি করে লাশের স্তুপ তৈরি করেছিলো তারা পেত রাষ্ট্রীয় খেতাব।
জুলাইয়ের দিনগুলোতে এবি পার্টি শুরু থেকেই ছাত্রদের আন্দোলনের সাথে ছিলো, অন্যরাও পরে ধীরে ধীরে যুক্ত হয়েছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে আন্দোলনে ভুমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছাত্র জনতাসহ রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ করার ফলেই  সফল হয়েছে। তাই সকলের অবদানকেই স্বীকৃতি দিতে হবে, এটা নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ নাই। তিনি ২০২৪ এর আজকের এই দিনে নিজের রিমান্ডে যাওয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা অনেক কিছুই পাইনি তবে আজ যে স্বাধীন ভাবে কথা বলছি, লিখছি, বক্তব্য দিচ্ছি সেটা এই গণঅভ্যুত্থানের ফসল।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ডা ওহাব মিনার বলেন,জুলাই গন অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা প্রচন্ড অনিশ্চয়তায় ভুগছে। তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে,  পুনর্বাসন করতে হবে , দ্রুত জুলাই সনদ প্রকাশ করতে হবে।  তাহলেই ছাত্র জনতার প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করি।
এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লে. কর্নেল (অবঃ) দিদারুল আলম, লে.কর্ণেল (অবঃ) হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকন, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফারাহ নাজ সাত্তার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান ব্যাপারী,  স্বেচ্ছাসেবক ও জনকল্যাণ বিষয়ক সহ সম্পাদক কেফায়েত হোসাইন তানভীর ও নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button