Uncategorized

রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনির বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে এক সরকারী স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মামলা করেছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুর রশীদ। ওই শিক্ষিকা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা ছাড়াও ভুয়া কাজী অফিসে বিয়ে রেজিস্ট্রির নামে প্রতারণা করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন রনি। পরবর্তীতে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে আপত্তি জানিয়ে দলীয় প্রভাবে বিভিন্নভাবে তাকে ভয় ভীতি দেখাতেন রনি।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি আবদুর রশিদ জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি থানায় রেকর্ড করে বাদী স্কুল শি¶িকাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয়েছে। থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তাদের মাঝে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রনি তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় কাজের কথা বলে রনি তার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এরপর বিয়ে করার কথা বললেই রনি টালবাহানা শুরু করে। অবশেষে তার বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের চাপে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল মাসে নীলফামারীতে তাকে বিয়ে করার জন্য নিয়ে যায় রনি। সেখানে নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজল কুমারের বাসায় নিয়ে গিয়ে ভুয়া কাজী এনে বিয়ে রেজিস্ট্রির নামে প্রতারণা করা হয়। এমনকি ওইদিন তাদের বাসর রাতও হয়। ওই শিক্ষিকা রনি দ্বারা একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন দাবি করে এজাহারে আরো উল্লেখ করেছেন- বিয়ের পর তাকে রনির বাবার বাড়িতে নিয়ে যাবার জন্য বললে তার সাথে নানা টালবাহানাসহ সময়ক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্যে রনি ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব ৬ বছর ধরে পালন করায় তার ছাত্রলীগ করা সম্ভব হবে না বলে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে তাকে ২০ লাখ টাকা জোগাড় করে দেবার জন্য চাপ দেয়।
ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই শিক্ষিকাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করা হয়। গত ৫ জুন শিক্ষিকার কেরানীপাড়ার বাসায় এসে রনি রাত যাপন করে এবং তাকে ধর্ষণ করে। সেসময় তাকে কথা দেয়া হয় স্ত্রীর অধিকার দিয়ে বাসায় নেয়া হবে। অথচ পরবর্তীতে রনি তাকে সরে যাবার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। গত ১২ জুলাই তারিখে রংপুর নগরীর গনেশপুর ক্লাব মোড় এলাকায় রনির ফুফুর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রনি জানায় তার সঙ্গে কোনো বিয়ে হয়নি। এমনকি রেজিস্ট্রিসহ বিয়ের কোন কাবিননামাও হয়নি। এরপর সহযোগীদের দিয়ে রনি ওই শিক্ষিকাকে তার ফুফুর বাড়ি থেকে বের করে দেন।
ওসি আবদুর রশিদ জানান, স্কুল শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হয়েছে। এব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে জানতে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনির সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ না করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য- ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মেহেদী হাসান রনিকে সভাপতি ও রাকিবুল হাসান কাকনকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রলীগের এক বছর মেয়াদি কমিটি গঠন করা হলেও ৬ বছর ধরে রনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অভিযোগ করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button