slider

রংপুরে ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ২

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের গঙ্গাচড়ার শেখ হাসিনা তিস্তা সেতু এলাকায় এশিয়ান টেলিভিশনের প্রতিনিধিসহ চার সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দু‘জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মহিপুর এলাকার লুলু ও দুলাল মিয়া।

গঙ্গাচড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুলাল মিয়া জানান, ‘বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিস্তা সড়ক সেতুর এলাকায় চরের ভুট্রার বাম্পার ফলনের প্রতিবেদন করতে যায় এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি বাদশাহ ওসমানি, ভিডিও সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম, দৈনিক দাবানলের স্টাফ রিপোর্টার এ কে এম সুমন ও ফটো সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় পূর্ব মহিপুর এলাকার মরহুম শহিদার রহমানের ছেলে লুলু মিয়া ভুট্রা গাছের ছবি তুলতে বাঁধা দেন। এ সময় তিনি অতর্কিতভাবে এশিয়ান টেলিভিশনের ভিডিও সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা করে তাকে কিলঘুষি মারতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হন রাজু, দুলালসহ তার সাঙ্গপাঙ্গারা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে গঙ্গাচড়া হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করায়। হামলায় সাংবাদিক ওসমানির কান ও চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ওসমানি থানায় মামলা করেছেন। আমরা ইতোমধ্যেই লুলু ও দুলালকে গ্রেফতার করেছি। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

হামলার শিকার সাংবাদিক বাদশাহ ওসমানি জানান, এবার চরে ভুট্রার বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই প্রতিবেদন করার জন্য আমি সহকর্মীদের নিয়ে করার জন্য বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে গঙ্গাচড়ার মহিপুর শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতুর পূর্ব পার্শ্বে চল্লিশ সালের চরের ভুট্রা ক্ষেতে যাই। সেখানে আমার ভিডিও সাংবাদিক আরিফুল ক্যামেরা বের করে ভুট্রার ছবি তোলা শুরু করা মাত্রই লুলু মিয়া বাঁধা দেন। কোনো ধরনের কথা বার্তা ছাড়াই তিনি আরিফুলকে বেধড়ক কিল ঘুষি মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেন। তাকে বাঁচাতে গেলে তিনি আমাকেসহ আমার অন্য দু্ই সহকর্মীরকেও মারতে থাকেন। এরপর আশপাশ থেকে দুলাল, রাজুসহ ১০ থেকে ১২ জন বের হয়ে এসে আমাদের বেধড়ক মারতে থাকেন। তাদেরকে আমরা বলতে থাকি কেন মারছেন, তারা তখন গালিগালাজ করেতে থাকে ও মারতে থাকে। এভাবে তিন দফায় তারা আমাদের মারতে থাকে। বিষয়টি সেখান থেকে পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে তিনি ফোর্স পাঠিয়ে আমাদের উদ্ধার করেন।

সাংবাদিক ওসমানি আরো বলেন, পরে স্থানীয়রা বলেছেন, হামলাকারীরা চরের জমি দখলবাজি করছে। কিছুদিন আগে চরের ১০৫ শতক জমি তারা বিক্রি করেছে। যে জমিতে আমরা ছবি তুলতেছিলাম। সেই জমিও তাদের দখল করে রাখা। সে কারণে মামলা চলছে। তারা মনে করেছে, আমরা তাদের জমি দখলের সংবাদ করার জন্য সেখানে গেছি। হামলাকারীরা এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, যদি পুলিশ না আসত তাহলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেত।

হামলার শিকার স্থানীয় দৈনিক দাবানলের স্টাফ রিপোর্টার এ কে এম সুমন জানান, হামলার পর তারা আমাদের সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখে। সেখানে একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে বলা হয়, ১০ হাজার টাকা দিলে তাদেরকে সেতুতে উঠতে দেয়া হবে। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আমরা কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে গেছি। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হলে গণমাধ্যম সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না।

রংপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, ঘটনাটি জানা মাত্রই আমরা সাংবাদিকদের প্রথমে উদ্ধার করেছি। চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। মামলা নিয়েছে। গ্রেফতার করেছি। আমরা চাই সাংবাদিকরা যেকোনো স্থানে ভীতিহীনভাবে তাদের তথ্য তালাশ করুক। তাদের কাজে যারা বাঁধা দিবে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর প্রেস ক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন, রিপোর্টার্স ইউনিটি। তার অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button